ই-কমার্স বিজনেস কি? বাংলাদেশে ই-কমার্স এর সম্ভাবনা ও সমস্যা

প্রিয় পাঠক, ই-কমার্স বিজনেস কি? বাংলাদেশে ই-কমার্স এর সম্ভাবনা ও সমস্যা নিয়ে আমরা আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি সাজিয়েছি। পুরো আর্টিকেল জুড়েই থাকছে ই-কমার্স বিজনেস কি? বাংলাদেশে ই-কমার্স এর সম্ভাবনা ও সমস্যা  সহ নানা বিষয়। আশা করি, এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে ই-কমার্স বিজনেস শুরু করা এবং ই-কমার্স ব্যবসার পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে আপনার অনেক উপকার হবে।
ই-কমার্স বিজনেস কি
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি অবশ্যই ই-কমার্স বিজনেস কি? বাংলাদেশে ই-কমার্স এর সম্ভাবনা ও সমস্যা সম্পর্কে জানতে পারবেন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।
সূচিপত্রঃ ই-কমার্স বিজনেস কি? বাংলাদেশে ই-কমার্স এর সম্ভাবনা ও সমস্যা

ভূমিকা

কমার্স শব্দটির সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। কমার্স মানেই হিসাব-নিকাশ আর হিসাব-নিকাশ মানেই ব্যবসা। বর্তমান আধুনিক বিশ্বায়নের যুগে একটি নতুন ব্যবসার ধারণার জন্ম হয়েছে, যাকে বলা হয় ই - কমার্স। আধুনিক প্রযুক্তি তথা ইন্টারনেট, ল্যাপটপ ও মোবাইল এগুলোকে কাজে লাগিয়ে যে বিজনেস করা হয় মূলত সেটি হল ই-কমার্স বিজনেস।

ই-কমার্স বিজনেস কি? বাংলাদেশে ই-কমার্স এর সম্ভাবনা ও সমস্যা

ই-কমার্স শব্দটির পূর্ণ অর্থ হলো, ইলেকট্রিক কমার্স (Electronic Commerce) বা অনেকে ইন্টারনেট কমার্স (Internet Commerce) ও বলে থাকেন। বর্তমান সময়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন উপকরণ যেমন- ইন্টারনেট, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ বা মোবাইল ইত্যাদি ইলেকট্রিক সামগ্রী ব্যবহার করে সমস্ত রকমের পণ্য বা সেবা ক্রয় বা বিক্রয় বা বিনিময় করাকেই মূলত ই-কমার্স বলে।
একজন ক্রেতা ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে তার প্রয়োজনীয় যে কোন পণ্য ক্রয় করার জন্য দেশে এবং বিদেশের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তার পছন্দের পণ্যটি খুব সহজে ঘরে বসেই গুণগত মান সম্পন্ন পণ্য ক্রয় করতে পারছেন। 
ঠিক তেমনি একটি কোম্পানি তার পণ্য বা সেবার গুণগত মান খুব সহজেই ক্রেতাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারছেন। এভাবে ই-কমার্স বিজনেস দিনকে দিন বাংলাদেশে অনেক সম্ভাবনাময় করে তুলছে।
বাংলাদেশে ই-কমার্স এর সম্ভাবনা
ই-কমার্স এর নাম শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে আসে বিশ্বের অন্যতম সেরা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান এমাজন, আলিবাবার মত অনেক প্রতিষ্ঠানের নাম। বাংলাদেশে ই-কমার্স বিজনেস এর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ই ক্যাব) এর তথ্য মতে, ২০১৭ সালে একটি প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছিল বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান মিলে সর্বমোট ১০ বিলিয়ন ডলার লেনদেন হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ই-কমার্স বিজনেস বিশাল এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
ই-কমার্স বিজনেস এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন তথ্যসূত্র থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ই-কমার্স বিজনেস এর আকার হবে প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ডলার। অঞ্চলভেদে ই-কমার্স বিজনেসে ক্রেতার সংখ্যা সবচেয়ে এগিয়ে আছে ঢাকা যার আকার ৩৫%। এর পরেই আছে চট্টগ্রাম ৩০%। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১% অনলাইনে কেনাকাটা করে। তাহলে বুঝতেই পারছেন কি অপার সম্ভাবনা আছে এই ই-কমার্স বিজনেসে।
বাংলাদেশে ই - কমার্স এর সমস্যা
ই-কমার্স খাতে বাংলাদেশে যে সম্ভাবনা রয়েছে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে গেলে বেশ কিছু সমস্যা আমাদের চোখে সামনে উঠে আসে। সমস্যাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
  • নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার আরো উন্নত করতে হবে
  • ইন্টারনেটের ব্যবহার সহজলভ্য হতে হবে
  • কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের উপর মানুষের আস্থা থাকতে হবে
  • ই-কমার্সের জন্য সঠিক নীতিমালা এবং তার প্রয়োগ থাকতে হবে
  • পেমেন্ট পদ্ধতি সহজ থেকে সহজ স্তর করতে হবে
  • সঠিক সময়ের মধ্যে অর্ডারকৃতপন্ন গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে হবে
  • অনলাইনে কেনাকাটার জন্য মানুষকে আকৃষ্ট করা যায় এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে
  • বিদেশি বড় বড় কোম্পানির আগ্রাসন থেকে মুক্ত রাখতে হবে

ই-কমার্স বিজনেস এর প্রতিষ্ঠাতা কে?

নিরাপদ ভাবে তথ্য প্রেরণের জন্য ১৯৭৯ সালে মাইকেল এলড্রিজ ইলেকট্রনিক শপিং আবিষ্কার করেন। সেখানে তিনি টেলিফোন সংযোগের মাধ্যমে টিভির সাথে একটি লেনদেন প্রক্রিয়ার মধ্যে কম্পিউটার সংযোগ করেছিলেন। এরপর ১৯৮২ সালে কম্পিউটার তথা প্রযুক্তির ক্রমাগত বৃদ্ধি সাথে সাথে ই-কমার্স প্লাটফর্ম পরিচালিত হতে থাকে। ৯০ দশকের দিকে চার্লস এম স্ট্যাক একটি অনলাইন বইয়ের দোকান বুক স্টাক্স নামে চালু করেন মূলত এটি প্রথম অনলাইন শপিং সাইট গুলোর মধ্যে একটি।

ই-কমার্স ওয়েবসাইট কি?

ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয় বা বিক্রয় করা হয় সেটাই মূলত ই-কমার্স ওয়েবসাইট। ই-কমার্স কে সংক্ষেপে অনলাইন স্টোর বা ডিজিটাল স্টোরো বলা যেতে পারে। ই- কমার্স ওয়েবসাইটের মূলত দুইটি অংশ থাকে যার প্রথমটি হল ফ্রন্ট ইন্ড ফিচারস (Front-end features) আর দ্বিতীয়টি হল ব্যাক ইন্ড ফিচারস (Back-end features)।

ই-কমার্স ব্যবসার নিয়ম

যেকোনো ব্যবসা শুরু করতে গেলে সেই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবসার পরিকল্পনা সাজাতে হবে। সাধারণত যেকোনো একটি ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যে সকল কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়, ই-কমার্স বিজনেসের ক্ষেত্রেও তাই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হল।
  • প্রতিষ্ঠানের নাম সহ ট্রেড লাইসেন্স করে নিতে হবে।
  • প্রতিষ্ঠান বা প্রোপাইটারের টিন সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
  • পণ্যের যাবতীয় তথ্য দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে।
  • সঠিক সময়ে ক্যাশ অন ডেলিভারির ব্যবস্থা রাখতে হবে।
  • মেডিসিন জাতীয় ব্যবসার ক্ষেত্রে ড্রাগ লাইসেন্স থাকতে হবে।
  • বিস্ফোরক জাতীয় ব্যবসার ক্ষেত্রে বিস্ফোরক লাইসেন্স থাকতে হবে।
  • মাদকদ্রব্য বা অন্যান্য বেআইনি পন্য বিক্রি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ই-কমার্স বিজনেস এর প্রকারভেদ

ই-কমার্স বিজনেস এর মূলত চারটি ভাগ রয়েছে এই ভাগগুলো হল-
  • ব্যবসা থেকে ভোক্তা (B2C - Business to Consumer)
  • ব্যবসা থেকে ব্যবসা (B2B - Business to Business)
  • ভোক্তা থেকে ব্যবসা (C2B - Consumer to Business)
  • বক্তা থেকে ভোক্তা (C2C - Consumer to Consumer)

ই-কমার্স বিজনেস মডেল

যেকোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে বিজনেস এর মডেল বা পরিকল্পনা তৈরি করা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই আজকে আপনার সাথে ই-কমার্স বিজনেস এর মডেল নিয়ে আলোচনা করব আশা করি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি আপনার ই-কমার্স বিজনেস এর মডেল খুব সহজেই তৈরি করতে পারবেন এর আগে আমরা দেখিয়েছি ই-কমার্স বিজনেস মূলত চার প্রকার আর এই চার প্রকার বিজনেসকে অপারেট করতে গেলে কিছু বিজনেস মডেল বা উপাদান তৈরি করতে হবে উপাদানগুলো হল-
  • মার্কেট এনালাইসিস বা বাজার বিশ্লেষণ (Marketing Analysis)
  • প্রোডাক্ট এন্ড সার্ভিস বা পূর্ণ এবং সেবা (Product and Service)
  • ফান্ডিং বা মূলধন (Funding)
  • মার্কেটিং স্ট্রাটেজি বা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা (Marketing Strategy)
  • প্রাইসিং বা পণ্যের মূল্য নির্ধারণ (Product Price)
  • পেমেন্ট সিস্টেম (Payment System)
  • ম্যানেজমেন্ট টীম বা ব্যবস্থাপনা টিম (Management Team)
  • সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট (Supply Chain Management)

ই-কমার্স বিজনেস এর সুবিধা সমূহ

প্রিয় পাঠক চলুন এবার ই-কমার্স বিজনেস এর সুবিধা গুলো জেনে নিন।
  • অতি অল্প সময়ে পণ্য ক্রয় বা বিক্রয় সম্পন্ন করা যায়।
  • পণ্য ক্রয় এবং বিক্রয়ে উভয়েরই খরচ কম হয়।
  • ক্রেতা বা বিক্রেতার উভয়েরই চাহিদা মোতাবেক পণ্য সরবরাহ করা যায়।
  • ব্যবসা পরিচালনা করতে খরচ কম হয়।
  • ঘরে বসেই নিজের পছন্দমত পণ্য কেনা যায়।
  • প্রতিটা পণ্যের রিভিউ দেখে পন্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
  • ক্রয় এবং বিক্রয়ের ক্ষেত্রে উভয়েরই সময় সাশ্রয় হয়।

ই-কমার্স বিজনেস এর অসুবিধা সমূহ

চলুন এবার ই-কমার্স বিজনেস এর অসুবিধা সমূহ জেনে নেই
  • প্রচলিত আইন ও নিয়ম নীতির প্রয়োগ না থাকায় ক্রেতার পণ্য ক্রয়ে আগ্রহ কম।
  • দক্ষ জনবল এর অভাব।
  • সময়মতো ক্রেতার হাতে পণ্য না পৌঁছানো।
  • পণ্যের গুণগত মান সঠিক না হওয়া।
  • দূরবর্তী স্থানে পণ্য পৌঁছানোর ডেলিভারি খরচ বেশি হওয়া।
  • ই-কমার্স বিজনেস দাঁড় করানোর জন্য প্রশিক্ষণের অভাব।
প্রিয় পাঠক, ই-কমার্স বিজনেস কি? বাংলাদেশে ই-কমার্স এর সম্ভাবনা ও সমস্যা নিয়ে আজকের এই আর্টিকেলটি লেখা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি ই-কমার্স বিজনেস সম্পর্কে সম্মুখ একটা ধারণা দেওয়ার জন্য। আশা করি, এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনি আপনার ই-কমার্স বিজনেস দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে অনেক উপকার আসবে। আর আপনার উপকারে আসলেই আমাদের কষ্ট সার্থক হবে। এরকম আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমূহ জানতে আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্চিং লিংক প্রোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪