সাম্মাম ফলের উপকারিতা ও চাষ পদ্ধতি বা রকমেলন ফল সম্পর্কে জানুন

প্রিয় পাঠক, সাম্মাম ফলের উপকারিতা ও চাষ পদ্ধতি বা রকমেলন ফল সম্পর্কে জানুন এই আলোচনায় আমরা আজকে জানব মরুর দেশের ফল শাম্মাম সম্পর্কে। এটা মরুর দেশের ফল হলেও আমাদের দেশের অনেক উদ্যোক্তা এই ফল চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন। তাই সাম্মাম ফলের উপকারিতা ও চাষ পদ্ধতি বা রকমেলন ফল সম্পর্কে জানুন আমাদের আজকের এই আলোচনা। তাই চলুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক সাম্মাম ফলের উপকারিতা ও চাষ পদ্ধতি বা রকমেলন ফল সম্পর্কে।
সাম্মাম ফলের উপকারিতা
আরব দেশে এই ফলটিকে সাম্মাম নামেই চেনে। আবার অস্ট্রেলিয়াতে এই ফলটিকে রকমেলন নামে চেনে কারণ, এই ফলের উপরিভাগ বা ত্বক রক পাথরের মত দেখতে। আমাদের এশিয়াতে এটি মেলন নামে পরিচিত।
পোস্টসূচিঃ সাম্মাম ফলের উপকারিতা ও চাষ পদ্ধতি বা রকমেলন ফল সম্পর্কে জানুন।

ভূমিকা

সাম্মাম বা রকমেলন একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। এই ফল খেতে মিষ্টি, সুস্বাদু ও সুগন্ধিযুক্ত। সাম্মাম একটি আরবি শব্দ, এর অর্থ খরবুজ বা খরমুজ। ফল হিসাবে এটি আমাদের দেশে নতুন হওয়ায় নতুন উদ্যোক্তারা লাভের আশায় এই ফলটি চাষ করতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। 
কিন্তু চাষাবাদের যথেষ্ট গাইডলাইন ও কারিগরি জ্ঞান এর অভাবে অনেকেই তা পারছেন না। তাই আজকে আমরা সাম্মাম ফলের উপকারিতা ও চাষ পদ্ধতি বা রকমেলন ফল সম্পর্কে আলোচনা করব।

সাম্মাম বা রকমেলন ফলের চাষ পদ্ধতি

জাত পরিচিতি-হানি জুস, রকস্টার নামে বিভিন্ন জাতের সাম্মাম বা রকমেলন এর বিজ বাংলাদেশে পাওয়া যায়। আপনার নিকটস্থ যেকোন বীজের দোকানে সাম্মাম বা রকমেলন বীজ পেতে পারেন। যদি কোথাও বিজ না পাওয়া যায় তাহলে ফল কিনে ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করে নিতে পারেন।
  • চাষাবাদের সময়-এটি একটি গ্রীষ্মকালীন ফল, তাই ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিজ বা চারা রোপন করা যেতে পারে। তবে বর্তমানে অনেকেই নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে সারা বছরই চাষ করছেন, তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষ যত্ন নিতে হবে।
  • বীজ হার-এক বিঘা জমিতে অর্থাৎ ৩৩ শতকে প্রায় ৯০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। ১০ গ্রামের একটি প্যাকেট থেকে ৩৫০ থেকে ৪০০ টি বীজ পাওয়া যায়।
  • চারা তৈরি করার নিয়ম-যে কোন বীজের ক্ষেত্রে বীজ প্যাকেট থেকে বের করে রোদে এক ঘণ্টা শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর পলি ব্যাগে একটি একটি করে বীজ বীজ দিয়ে পানি দিয়ে দিতে হবে। চারা বয়স ১০ থেকে ১২ দিন অর্থাৎ দুই থেকে তিন পাতা বের হলে ২ ফুট দূরে দূরে চারা রোপন করতে হবে।
সার ব্যবস্থাপনা-প্রতি শতকের জন্য
গোবর ১৫০ কেজি
জিপসাম বা চুন ৭৫ কেজি
ইউরিয়া ৫০০ গ্রাম
টিএসপি ১০ কেজি
পটাশ ১৫ কেজি
জিংক, বোরন, সালফার এবং দানাদার কীটনাশক ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম
শুধুমাত্র জিংক বাদে বাকি সারগুলো একত্রে মিশিয়ে প্রতি শতক জমির জন্য প্রয়োগ করতে হবে জিংক আলাদা ভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে।
এরপর প্রতি ১৫ দিন পর পর শতক প্রতি ২০০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ২০০ গ্রাম পটাশ উপরি প্রয়োগ করতে হবে। সার ছিটানোর পর অবশ্যই জমিতে পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • পোকামাকড় ও রোগবালায় দমন ব্যবস্থাপনা-সাম্মাম বা রকমেলন একটি কুমড়া জাতীয় ফসল। তাই কুমড়া জাতীয় যেসব পোকামাকড় ও রোগ বালাই আক্রমণ করে সেই অনুযায়ী তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতি সাত দিন পর পর ৫৫ইসি কীটনাশক এবং ম্যানকোজেব গ্রুপের ঔষধ একসাথে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
  • আন্ত পরিচর্যা-সাম্মাম বা রকমেলন যেহেতু গ্রীষ্মকালীন ফসল তাই মাচা ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। আর মাচা ব্যবহার করলে প্রতিটা গাছের যত্ন আলাদা আলাদা ভাবে নেওয়া যায় এবং সেই সাথে ভিতরের আগাছা গুলো সহজ পরিষ্কার করা যায়। মনে রাখবেন, প্রথম ফুল এবং ফল কখনোই রাখা যাবে না এটি ধরা মাত্রই কেটে দিতে হবে। সেই সাথে বাড়তি শাখা-প্রশাখা ও রাখা যাবে না কেটে ফেলতে হবে।
  • ফল সংগ্রহ-চারা রোপনের ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যেই প্রথম ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতিটি ফলের ফলের গড় ওজন ২থেকে ২.৫ কেজি।

সাম্মাম বা রকমেলন ফলের স্বাস্থ্য উপকারিতা

আপনি কি সাম্মাম ফলের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে বা সাম্মাম ফলের উপকারিতা ও চাষ পদ্ধতি বা রকমেলন ফল সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য। এই পোস্টে সাম্মাম ফলের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আপনাদেরকে অবগত করব। চলুন জেনে নেয়া যাক সাম্মাম ফলের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে।
  • বিভিন্ন এন্টিঅক্সিডেন্ট সম্পন্ন এই সাম্মাম বা রক মিলন ফলের রয়েছে নানা রকমের পুষ্টিগুণ। 
  • এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম সহ নানা উপাদান। 
  • এ ফলে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধক ভিটামিন বেটা ক্যারোটিন। 
  • ৯০ ভাগ পানি রয়েছে এ ফলে, যা শরীরকে ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা করে এবং হজমে সহায়তা করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। 
  • চোখের দৃষ্টি শক্তি স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করে। 
  • চুল ও ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও উপকার করে।

কিভাবে খাবেন সাম্মাম ফল?

সাম্মাম ফলের উপকারিতা ও চাষ পদ্ধতি বা রকমেলন ফল সম্পর্কে জানুন এ আলোচনায় আমরা এবার জানবো কিভাবে সাম্মাম ফল খাওয়া যায়। যেহেতু, সাম্মাম বিদেশি ফল তাই আমাদের মনে অনেকেরই এই প্রশ্ন থাকতে পারে। সাম্মাম ফল দেখতে তরমুজের মত, তরমুজের মতই এর উপরের ত্বক শক্ত এবং মোটা। তাই এটা তরমুজের মতোই খালি ফালি করে কেটে পরিবেশন করতে হয়। এটি তরমুজের মতই খুবই রসালো ফল।

সাম্মাম ফলের দাম কেমন?

সাম্মাম ফলের উপকারিতা ও চাষ পদ্ধতি বা রকমেলন ফল সম্পর্কে জানুন আলোচনায় সাম্মাম ফলের দাম কেমন এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা বেশ কষ্টকর। যেহেতু, এটা মৌসুমী ফল তাই বাজারের সরবরাহের যোগান এবং ক্রেতার চাহিদার উপরে নির্ভর করবে। সাধারণত বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় এটা গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে একটি ফল বিক্রি হয়। 
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম নিউজ এটিএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল এটি বিশ্বের সবচাইতে দামি ফল যার এক কেজি ফলের মূল্য .২০ লাখ টাকা। জাপানে এই ফলটিকে বলা হয় ইউবাড়ি মেলন। ইউবাড়ি মেলন জাপানের এক বিশেষ শ্রেণীর মানুষের কাছে বিক্রি করা হয়। 
২০১৯ সালে একজোড়া ইউবাড়ি মেলন বিক্রি করা হয়েছিল ৩২ লাখ টাকা। যদিও এটা আমাদের কাছে অকল্প নিয়ম মনে হয় যাই হোক সাম্মাম ফল যে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফল এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

শেষ কথা

পরিশেষে, সাম্মাম ফলের উপকারিতা ও চাষ পদ্ধতি বা রকমেলন ফল সম্পর্কে জানুন এই আলোচনায় আমরা সাম্মাম বা রকমেলন বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আমরা আশা করি, মরুর দেশের এই ফলটি আমাদের দেশের ফলের তালিকায় নতুন একটি নাম যোগ হয়েছে। যেহেতু আমাদের দেশের মাটি এবং আবহাওয়া এই ফলের চাষের উপযোগী তাই সঠিক কারিগরি জ্ঞান ও সহযোগিতা পেলে অবশ্যই আমাদের দেশের কৃষি উদ্যোক্তারা এই ফল চাষে এগিয়ে আসবে।
আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এদেশের কৃষি ও কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের বিশ্বাস, উপরের আর্টিকেলটি আপনাদের অনেক উপকার আসবে এবং এই মেসেজটি আপনার প্রিয়জনদের সাথেও শেয়ার করবেন, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্চিং লিংক প্রোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪