ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম, ফজিলত, ১০ পুরস্কার, গুরুত্ব ও হাদিস সমূহ

প্রিয় পাঠক, আজ আমরা ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম, ফজিলত, ১০ পুরস্কার, গুরুত্ব ও হাদিস সমূহ এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমূহ নিয়ে আলোচনা করব। আপনি যদি ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম, ফজিলত, ১০ পুরস্কার, গুরুত্ব ও হাদিস সমূহ এই বিষয়গুলো জানতে চান তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য। তাহলে চলুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেই, ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম, ফজিলত, ১০ পুরস্কার, গুরুত্ব ও হাদিস সমূহ।
ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম, ফজিলত, ১০ পুরস্কার, গুরুত্ব ও হাদিস সমূহ
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে তার ফরজ বিধান পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে যথাসময়ে আদায় করে তার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাই ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম, ফজিলত, ১০ পুরস্কার, গুরুত্ব ও হাদিস সমূহ জানা আমাদের জন্য খুবই জরুরী।
পোস্টসূচিঃ ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম, ফজিলত, ১০ পুরস্কার, গুরুত্ব ও হাদিস সমূহ
  • ভূমিকা
  • ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম
  • ফজরের নামাজ দুনিয়ার সব কিছুর চেয়ে উত্তম
  • ফজরের নামাজের গুরুত্ব
  • ফজরের নামাজের ফজিলত ও ১০ পুরস্কার
  • ফজরে দেরিতে ঘুম ভাঙলে উঠেই যা করবেন
  • ফজরের নামাজের হাদিস সমূহ
  • শেষ কথা

ভূমিকা

সকল মুসলিম নর ও নারীর উপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে ফরজ সাব্যস্ত করেছেন, শরয়ী কোন সমস্যা ব্যতীত এই নামাজ কাজা করার ও তিনি কোন সুযোগ দেননি। এবং ফরজ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলত পূর্ণ নামাজ হল ফজর নামাজ।

ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম

ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম, ফজিলত, ১০ পুরস্কার, গুরুত্ব ও হাদিস সমূহ এই আর্টিকেলে প্রথমেই আমরা জানবো ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে।
ফজরের নামাজ ৪ রাকাত। যথাঃ
  • দুই রাকাত ফরজ
  • দুই রাকাত সুন্নত
জন্মসূত্রে আমরা বাংলাদেশী, আমাদের মাতৃভাষা বাংলা, বাংলাতে কথা বলতেই আমরা সাচ্ছন্দ বোধ করি, বাংলা ব্যতীত অন্য যেকোনো ভাষায় কথা বলাটা আমাদের জন্য কষ্টকর, তাই আমরা অনেকে নামাজের বাংলা নিয়ত জানতে চাই , আবার অনেকে আরবি নিয়তের বাংলা উচ্চারণ জানতে চাই।
নিম্নে দুই ধরনের নিয়তই তুলে ধরা হলোঃ
দুই রাকাত ফরজ নামাজের আরবি নিয়ত এর বাংলা উচ্চারণঃ
  • নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাকায়াতাই সালাতিল ফাজরী ফারদুল্লাহি তা'আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলাজিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।
  • বাংলায় নিয়তঃ আমি এই ইমামের পিছনে কিবলামুখী হয়ে ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করতেছি আল্লাহু আকবার।
দুই রাকাত সুন্নত নামাজের আরবি নিয়ত এর বাংলা উচ্চারণঃ
  • নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাকায়াতাই সালাতিস সুন্নাতি ফারদুল্লাহি তা'আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলাজিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।
  • বাংলায় নিয়তঃ আমি এই ইমামের পিছনে কিবলামুখী হয়ে ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত নামাজ আদায় করতেছি আল্লাহু আকবার।

ফজরের নামাজ দুনিয়ার সব কিছুর চেয়ে উত্তম

ফজরের নামাজ দুনিয়ার সব কিছুর চেয়ে উত্তম। প্রিয় পাঠক, আপনি যদি জানতে চান কেন ফজরের নামাজ দুনিয়ার সব কিছুর চেয়ে উত্তম? তাহলে ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম, ফজিলত, ১০ পুরস্কার, গুরুত্ব ও হাদিস সমূহ এই পোষ্টটি সম্পূর্ণ পড়লে আপনি অবশ্যই জানতে পারবেন কেন ফজরের নামাজ দুনিয়ার সব কিছুর চেয়ে উত্তম। তাহলে পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
ফজরের নামাজ কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এমন একটা সময়ে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন যখন সারা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ ঘুমে নিমজ্জিত থাকে, পুরো দুনিয়াতে তখন চলতে থাকে শনশান নীরবতা, একমাত্র আল্লাহর প্রিয় বান্দারাই ওই মুহূর্তে তার ডাকে সাড়া দিয়ে থাকেন, তাইতো একাধিক হাদিসের মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাজকে দুনিয়ার সব কিছুর চেয়ে উত্তম বলেছেন। হাদিসের মধ্যে এসেছে
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْغُبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا ‏"‏ ‏.
‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
  • তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ফাজ্‌রের দু’ রাক‘আত (সুন্নাত) সলাত দুন্‌ইয়া ও তার সব কিছুর থেকে উত্তম।(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৫৭৩)
হাদিসের মান: সহীহ
অপর এক হাদিসের মধ্যে এসেছে :
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيْبٍ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ قَالَ أَبِي حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ فِي شَأْنِ الرَّكْعَتَيْنِ عِنْدَ طُلُوعِ الْفَجْرِ ‏ "‏ لَهُمَا أَحَبُّ إِلَىَّ مِنَ الدُّنْيَا جَمِيعًا ‏"‏ ‏.
ইয়াহ্ইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিতঃ
  • তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের দু’ রাক‘আত সলাত সম্পর্কে বলেছেন যে, ঐ দু’ রাক‘আত সলাত আমার কাছে সারা দুন্ইয়ার সব কিছু থেকে অধিক প্রিয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৫৭৪)
হাদিসের মান: সহীহ
তাই আসুন সর্বদা প্রার্থনা করি যেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে তার ফরজ বিধান পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে যথাসময়ে আদায় করে তার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তৌফিক দেন।

ফজরের নামাজের গুরুত্ব

সুপ্রিয় পাঠক, এখন আমরা আলোচনা করব ফজরের নামাজের গুরুত্ব নিয়ে। ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম, ফজিলত, ১০ পুরস্কার, গুরুত্ব ও হাদিস সমূহ এই গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলে ফজরের নামাজের গুরুত্ব জানাটা আমাদের জন্য ভীষণ জরুরী। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, ফজরের নামাজের গুরুত্ব সমূহ।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে আমাদের উপর ফরজ সাব্যস্ত করেছেন, প্রতিটা নামাজেরই যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে, তন্মধ্যে ফজরের নামাজের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, কেননা এই নামাজের সময় মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে, আরামের ঘুম কে হারাম করে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে হয় যা আল্লাহর কাছে অনেক বেশি পছন্দনীয়।
আল্লাহ তাআলা দেখতে চান বান্দা তার জন্য কতটা কষ্ট করতে পারে? যেই কাজে কষ্ট বেশি সেই কাজে সন্তুষ্ট হয়ে পুরস্কারও আল্লাহ তায়ালা বেশি দিয়ে থাকেন। নিম্নে হাদিসের আলোকে ফজরের নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরা হলোঃ
১/আল্লাহ তাআলার জিম্মায় প্রবেশঃ হাদীসের মধ্যে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
  • مَن صلى الفجرَ، فهو في ذِمَّةِ اللهِ অর্থাৎঃ যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করল সে আল্লাহ তাআলার জিম্মায় চলে গেল।
২/ফজরের নামাজ মুমিন এবং মুনাফিক এর মাঝে পার্থক্যকারী। হাদিসের মধ্যে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
  • إنَّ أَثْقَلَ صَلَاةٍ علَى المُنَافِقِينَ صَلَاةُ الفَجْرِ অর্থাৎঃ নিশ্চয়ই মুনাফিকদের নিকটে সবচেয়ে কঠিনতম নামাজ হলো ফজরের নামাজ
৩/ ফজরের নামাজ দুনিয়ার মধ্যে অন্য সবকিছুর চেয়ে উত্তম। হাদিসের মধ্যে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
  • رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার সবকিছুর চেয়ে উত্তম হলো ফজরের দুই রাকাত নামাজ ।
উপরিক্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনার ভিত্তিতে আশা করি আমাদের সামনে ফজর নামাজের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে , আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ফজর সহ অন্য সকল নামাজের গুরুত্ব অনুধাবন করে আমল করার তৌফিক দান করুন।

ফজরের নামাজের ফজিলত ও ১০ পুরস্কার

আপনি যদি ফজরের নামাজের ফজিলত ও ১০ পুরস্কার সম্পর্কে জানতে চান তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য। ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম, ফজিলত, ১০ পুরস্কার, গুরুত্ব ও হাদিস সমূহ এই আর্টিকেলে আমরা এখন জানবো ফজরের নামাজের ফজিলত ও ১০ পুরস্কার সম্বন্ধে।
১/তুলনাহীন সওয়াব অর্জনঃ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ
أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى قَوْمٍ أَفْضَلُ غَنِيمَةً وَأَسْرَعُ رَجْعَةً ؟ قَوْمٌ شَهِدُوا صَلَاةَ الصُّبْحِ ثُمَّ جَلَسُوا يَذْكُرُونَ اللَّهَ حَتَّى طَلَعَتِ الشَّمْسُ فَأُولَئِكَ أَسْرَعُ رَجْعَةً وَأَفْضَلُ غَنِيمَةً
  • আমি কি তোমাদেরকে এমন এক দলের কথা বলব না যারা এদের(যুদ্ধে বিজিত) চেয়ে তাড়াতাড়ি উত্তম গণিমত নিয়ে ফিরে আসে? যারা ফজরের নামাজের জামা’আতে হাযির হয়, (নামাজ শেষে) সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহ্ তা’আলার যিকির করতে থাকে, তারাই অল্প সময়ের মধ্যে উত্তম গণিমতসহ প্রত্যাবর্তনকারী
২/পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদঃ
حَدَّثَنَا مَجْزَأَةُ بْنُ سُفْيَانَ بْنِ أَسِيدٍ، مَوْلَى ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الصَّائِغُ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ بَشِّرِ الْمَشَّائِينَ فِي الظُّلَمِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏
আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
  • তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, রাতের অন্ধকারে মসজিদসমুহে যাতায়াতকারীদেরকে কিয়ামাতের দিনের পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও
৩/দুনিয়ার সব কিছুর চেয়ে উত্তমঃ
ফজরের নামাজ দুনিয়ার মধ্যে অন্য সবকিছুর চেয়ে উত্তম। হাদিসের মধ্যে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
  • رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার সবকিছুর চেয়ে উত্তম হলো ফজরের দুই রাকাত নামাজ ।
৪/ জাহান্নাম থেকে মুক্তিঃ
হাদিসের মধ্যে এসেছেঃ
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ صَلَّى الْبَرْدَيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ ‏"
  • রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে
৫/ফজর আদায়কারী ব্যক্তির ব্যাপারে 
ফেরেশতাগণ কর্তৃক আল্লাহ তাআলার নিকট সুসংবাদ প্রেরণঃ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلاَئِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلاَئِكَةٌ بِالنَّهَارِ، وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ وَصَلاَةِ الْعَصْرِ، ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ، فَيَسْأَلُهُمْ وَهْوَ أَعْلَمُ بِهِمْ كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي فَيَقُولُونَ تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ، وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ ‏"‏‏.‏
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
  • আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মালাকগণ পালা বদল করে তোমাদের মাঝে আগমন করেন; একদল দিনে, একদল রাতে। ‘আসর ও ফজরের সালাতে উভয় দল একত্র হন। অতঃপর তোমাদের মাঝে রাত যাপনকারী দলটি উঠে যান। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের জিজ্ঞেস করেন, আমার বান্দাদের কোন্ অবস্থায় রেখে আসলে? অবশ্য তিনি নিজেই তাদের ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত। উত্তরে তাঁরা বলেন, আমরা তাদের সালাতে রেখে এসেছি, আর আমরা যখন তাদের নিকট গিয়েছিলাম তখনও তারা সালাত আদায়রত অবস্থায় ছিলেন।
৬/পূর্ণ এক হজ ও ওমরার সওয়াবঃ
مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ ، وَعُمْرَةٍ ، تَامَّةٍ ، تَامَّةٍ ، تَامَّةٍ
  • যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করার পর বসে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালার জিকিরে মশগুল থাকলো, অতঃপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করল, সে পরিপূর্ণ এক হজ্জ ও ওমরার সওয়াব পাবে। ‘পরিপূর্ণ’ এ শব্দটি তিনি তিনবার বলেছেন।
৭/ আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণঃ
وَحَدَّثَنِي نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُفَضَّلٍ - عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ سَمِعْتُ جُنْدَبَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ فَلاَ يَطْلُبَنَّكُمُ اللَّهُ مِنْ ذِمَّتِهِ بِشَىْءٍ فَيُدْرِكَهُ فَيَكُبَّهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ ‏"‏ ‏জুনদুব ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
  • রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফাজ্‌রের সলাত আদায় করল সে মহান আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণের অন্তর্ভুক্ত হলো। আর আল্লাহ তোমাদের কারো কাছে তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাদানের বিনিময়ে কোন অধিকার দাবী করেন না। যদি করেন তাহলে তাকে এমনভাবে পাকড়াও করবেন যে, উল্টিয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন।
৮/পূর্ণ রাত জেগে নামাজ আদায়ের সোয়াবঃ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ سَلَمَةَ الْمَخْزُومِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، - وَهُوَ ابْنُ زِيَادٍ - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ، قَالَ دَخَلَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ الْمَسْجِدَ بَعْدَ صَلاَةِ الْمَغْرِبِ فَقَعَدَ وَحْدَهُ فَقَعَدْتُ إِلَيْهِ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا قَامَ نِصْفَ اللَّيْلِ وَمَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنَّمَا صَلَّى اللَّيْلَ كُلَّهُ ‏"‏ ‏.
‘আবদুর রহ্‌মান ইবনু আবূ ‘আম্‌রাহ্‌ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
  • তিনি বলেন, একদিন মাগরিবের সলাতের পর ‘উসমান ইবনু ‘আফ্‌ফান মাসজিদে এসে একাকী এক জায়গায় বসলেন। তখন আমি তার কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে বললেন - ভাতিজা, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জামা’আতের সাথে ‘ইশার সলাত আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত সলাত আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফাজ্‌রের সলাত জামা’আতের সাথে আদায় করল সে যেন সারা রাত জেগে সলাত আদায় করল। (ই.ফা. ১৩৬৪, ই.সে. ১৩৭৬)
৯/মুনাফিক ও মুমিনের মাঝে পার্থক্যকারীঃ
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لَيْسَ صَلاَةٌ أَثْقَلَ عَلَى الْمُنَافِقِينَ مِنَ الْفَجْرِ وَالْعِشَاءِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا، لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ الْمُؤَذِّنَ فَيُقِيمَ، ثُمَّ آمُرَ رَجُلاً يَؤُمُّ النَّاسَ، ثُمَّ آخُذَ شُعَلاً مِنْ نَارٍ فَأُحَرِّقَ عَلَى مَنْ لاَ يَخْرُجُ إِلَى الصَّلاَةِ بَعْدُ ‏"‏‏.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
  • তিনি বলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মুনাফিকদের জন্য ফজর ও ‘ইশার সালাত অপেক্ষা অধিক ভারী সালাত আর নেই। এ দু’ সালাতের কী ফযীলত, তা যদি তারা জানতো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হতো। (রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন) আমি ইচ্ছে করেছিলাম যে, মুয়াজ্জিনকে ইক্বামাত দিতে বলি এবং কাউকে লোকদের ইমামত করতে বলি, আর আমি নিজে একটি আগুনের মশাল নিয়ে গিয়ে অতঃপর যারা সালাতে আসেনি, তাদের উপর আগুন ধরিয়ে দেই।
১০/পূর্ণ দিন উৎফুল্লতা অনুভবঃ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلاَثَ عُقَدٍ، يَضْرِبُ كُلَّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدْ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ، وَإِلاَّ أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلاَنَ ‏"‏‏.‏
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
  • আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাদংশে তিনটি গিঠ দেয়। প্রতি গিঠে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি শুয়ে থাক। অতঃপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে একটি গিঠ খুলে যায়, পড়ে উযূ করলে আর একটি গিঠ খুলে যায়, অতঃপর সালাত আদায় করলে আর একটি গিঠ খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয়, উৎফুল্ল মনে ও অনাবিল চিত্তে। অন্যথায় সে সকালে উঠে কলূষ কালিমা ও আলস্য সহকারে।
ফজরের নামাজের ফজিলতের ব্যাপারে এত বেশি হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে যদি কোন মুসলিম নর-নারী তার একটিও স্মরণে রাখে তাহলে কোন ধরনের অলসতা বা উদাসীনতা তার কাছে স্থান পাবে না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে উক্ত ফজিলত গুলো বুঝে আমল করার তৌফিক দান করুন।

ফজরের নামাজের হাদিস সমূহ

ফজরের নামাজের হাদিস সমূহ জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য খুবই জরুরী। তাই চলুন, ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম, ফজিলত, ১০ পুরস্কার, গুরুত্ব ও হাদিস সমূহ এই আর্টিকেলে ফজরের নামাজের হাদিস সমূহ জেনে নেই।
১/
عن بلال أنه أتى النبي صلى الله عليه وسلم يؤذنه بصلاة الفجر فقيل هو نائم فقال: الصلاة خير من النوم الصلاة خير من النوم
  • হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আসলেন ফজরের নামাজের জন্য ডাকতে , তখন তাকে বলা হলো যে তিনি ঘুমন্ত তাই তিনি বললেন ঘুম থেকে নামাজ উত্তম ঘুম থেকে নামাজ উত্তম।
২/
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلاَئِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلاَئِكَةٌ بِالنَّهَارِ، وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ وَصَلاَةِ الْعَصْرِ، ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ، فَيَسْأَلُهُمْ وَهْوَ أَعْلَمُ بِهِمْ كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي فَيَقُولُونَ تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ، وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ ‏"‏‏.‏
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
  • আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ফেরেশতাগণ পালা বদল করে তোমাদের মাঝে আগমন করেন; একদল দিনে, একদল রাতে। ‘আসর ও ফজরের নামাজে উভয় দল একত্রিত হন। অতঃপর তোমাদের মধ্যে রাত্রি যাপনকারী দলটি উঠে যান। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের জিজ্ঞেস করেন, আমার বান্দাদের কোন্ অবস্থায় রেখে আসলে? অথচ তিনি নিজেই তাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি জানেন। উত্তরে তাঁরা বলেন, আমরা তাদের নামাজের রেখে এসেছি, আর আমরা যখন তাদের নিকট গিয়েছিলাম তখনও তারা নামাজ আদায়রত অবস্থায় ছিল।
৩/
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِذَا أَدْرَكَ أَحَدُكُمْ سَجْدَةً مِنْ صَلاَةِ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَلْيُتِمَّ صَلاَتَهُ، وَإِذَا أَدْرَكَ سَجْدَةً مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَلْيُتِمَّ صَلاَتَهُ ‏"‏‏.‏
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
  • তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে ‘আসরের নামাজের এক সিজদা পায়, তাহলে সে যেন নামাজ পূর্ণ করে নেয়। আর যদি সূর্য উদিত হবার পূর্বে ফজরের নামাজের এক সিজদা পায়, তাহলে সে যেন নামাজ পূর্ণ করে নেয়।
উল্লেখ্য যে, আমরা অনেকেই ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর দেখি যে, ফজরের নামাজের সময় প্রায় শেষ। এক মিনিট বা দুই মিনিট সময় বাকি আছে, তখন আমরা অনেকেই আর নামাজটা পড়ি না বরং সেটাকে কাজা করে ফেলি, অথচ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে নামাজের এক সেজদা পরিমাণ আদায় করার সময় পেলেও নামাজ পড়ে ফেলার সুযোগ দিয়েছেন। কাজা করতে নিষেধ করেছেন।
৪/
حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنِي أَبُو جَمْرَةَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ صَلَّى الْبَرْدَيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ ‏"‏‏.‏ وَقَالَ ابْنُ رَجَاءٍ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ أَبِي جَمْرَةَ أَنَّ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ أَخْبَرَهُ بِهَذَا‏.‏ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، عَنْ حَبَّانَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا أَبُو جَمْرَةَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ‏.‏
আবূ বক্‌র ইবনু আবূ মূসা (রাঃ) হতে তাঁর পিতার সূত্র থেকে বর্ণিতঃ
  • তিনি বলেন, আল্লহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন; যে ব্যক্তি দুই শীতের (ফজর ও ‘আসরের) নামাজ আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ইবনু রজা‘ (রহঃ) বলেন, হাম্মাম (রহঃ) আবূ জামরাহ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, আবূ বক্‌র ইবনু ‘আবদুল্লাহ্‌ ইবনু কায়স (রহঃ) তাঁর নিকট এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
‘আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এ রকমই বর্ণনা করেছেন।

ফজরে দেরিতে ঘুম ভাঙলে উঠেই যা করবেন

ফজরে দেরিতে ঘুম ভাঙলে উঠেই যা করবেন এই প্রশ্নটা আমাদের অনেকেরই। তাই চলুন, ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম, ফজিলত, ১০ পুরস্কার, গুরুত্ব ও হাদিস সমূহ এই টাইটেল এর মাধ্যমে ফজরে দেরিতে ঘুম ভাঙলে উঠেই যা করবেন বিষয়টি জেনে নেই।
আমরা অনেকেই ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর দেখি যে, ফজরের নামাজের সময় প্রায় শেষ। এক মিনিট বা দুই মিনিট সময় বাকি আছে, তখন আমরা অনেকেই আর নামাজটা পড়ি না বরং সেটাকে কাজা করে ফেলি, অথচ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে নামাজের এক সেজদা পরিমাণ আদায় করার সময় পেলেও নামাজ পড়ে ফেলার সুযোগ দিয়েছেন। কাজা করতে নিষেধ করেছেন। 
এ প্রসঙ্গে-
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِذَا أَدْرَكَ أَحَدُكُمْ سَجْدَةً مِنْ صَلاَةِ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَلْيُتِمَّ صَلاَتَهُ، وَإِذَا أَدْرَكَ سَجْدَةً مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَلْيُتِمَّ صَلاَتَهُ ‏"‏‏.‏
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
  • তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে ‘আসরের নামাজের এক সিজদা পায়, তাহলে সে যেন নামাজ পূর্ণ করে নেয়। আর যদি সূর্য উদিত হবার পূর্বে ফজরের নামাজের এক সিজদা পায়, তাহলে সে যেন নামাজ পূর্ণ করে নেয়।

শেষ কথা

মুসলমান হিসাবে প্রতিটি মানুষের উচিত ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম, ফজিলত, ১০ পুরস্কার, গুরুত্ব ও হাদিস সমূহ বিস্তারিত জানা ও আমলের চেষ্টা করা। প্রিয় পাঠক, আমরা চেষ্টা করেছি ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম, ফজিলত, ১০ পুরস্কার, গুরুত্ব ও হাদিস সমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার।
এই পোস্টটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করবেন, যাতে করে সবাই জানার এবং আমল করার সুযোগ পায়। এইরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পুরো ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্চিং লিংক প্রোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪