ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারন এবং হ্যাক হলে করণীয়

সামাজিক যোগাযোগের সবচাইতে বড় মাধ্যম হলো ফেসবুক। এই ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারন এবং হ্যাক হলে করণীয় উপায়গুলো নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। পুরো আলোচনা জুড়েই থাকছে ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারন এবং হ্যাক হলে করণীয়। তাই, পুরো আর্টিকেলটি পড়লে ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারন এবং হ্যাক হলে করণীয় বিষয়গুলো জানতে পারবেন।
ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারন
ফেসবুক শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমই নয়। মানুষের আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা, ভালোলাগা অনেক বিষয়ই এখানে শেয়ার করে থাকি। দেশ-বিদেশের নিউজ আপডেটও ফেসবুকের মাধ্যমে পেয়ে থাকি।
পোস্ট সূচীপত্রঃ ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারন এবং হ্যাক হলে করণীয়

ভূমিকা

ফেসবুক ব্যবহার করেন না এমন মানুষ বর্তমানে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর এই ফেসবুক আইডি খোলার সময় মোবাইল নাম্বার থেকে শুরু করে অনেকগুলো তথ্য দিয়ে খুলতে হয়। এই তথ্য গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো পাসওয়ার্ড। মনে রাখার সুবিধার জন্য আমরা অনেক সময় খুব সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করি।
অনেকেই আবার নিজের জন্ম তারিখ অথবা মোবাইল নাম্বারটাই ব্যবহার করে ফেলি। আর এ সকল কারণেই হ্যাকাররা খুব সহজেই আমাদের আইডি হ্যাক করে নিতে পারে। ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারন এবং হ্যাক হলে করণীয় এই গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন এবং একাউন্ট হ্যাক হওয়া থেকে বাঁচুন।

ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারন

ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারন এবং হ্যাক হলে করণীয় এই আলোচনায় এখন আমরা জানব আমাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কি কি কারণে হ্যাক হতে পারে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক।
  • অ্যাকাউন্ট হ্যাকাররা ফেসবুকের নোটিফিকেশনের মত হুবহু দেখতে বিভিন্নভাবে লিংক পাঠায়। যাকে বলা হয় ফিসার ওয়েভ। অনেকেই না বুঝে পাসওয়ার্ড দিয়ে ওই লিঙ্কে প্রবেশ করে, ফলে পাসওয়ার্ড হ্যাকারের হাতে চলে যায়।
  • হ্যাকাররা কৌশলে কিছু ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে লোভনীয় ছবিসহ শেয়ার বাটন যুক্ত করে শেয়ার করতে বলে। আর শেয়ার করতে গেলে ইমেইল একাউন্ট বা পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। এভাবে বিভিন্ন অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার মাধ্যমে ফেসবুক একাউন্ট হ্যাকারের হাতে তুলে দেই।
  • হ্যাকাররা অনেক সময় ছদ্মবেশে বন্ধুত্ব তৈরি করে অনেক তথ্য হাতিয়ে নেয় এবং একপর্যায়ে আপনার ইনবক্সে একটি লিংক পাঠায়। আর আমরা না বুঝে সহজেই এই লিংকে প্রবেশ করি। আর এভাবেই আমাদের গোপন পাসওয়ার্ড এবং ইমেইল হ্যাক করে নেয়।
  • অনেকেই আমরা আমাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে অন্যের কম্পিউটার অথবা সাইবার ক্যাফেতে আইডি বা পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করি। কিন্তু কাজ শেষে সাইন আউট করার কথা মনে থাকে না। এভাবে আমরা নিজের অজান্তেই একাউন্ট বা পাসওয়ার্ড হারিয়ে ফেলি।
  • ফ্রি পাইলে কে না নিতে চায়। অনেক সময় আমরা ফ্রি ওয়াইফাই পেলেই পাসওয়ার্ড দিয়ে ব্যবহার শুরু করে দেই। আমরা বুঝতেই পারি না এটা হ্যাকারের ফাঁদ। এভাবেও আমরা আমাদের আইডি বা পাসওয়ার্ড হ্যাকারের হাতে তুলে দেই।
  • আমাদের ফোন বা ল্যাপটপ অনেক সময় চুরি হয়ে যায় বা হারিয়ে যায়। এভাবেও আমরা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ পাসওয়ার্ড হারাতে পারি।

ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হলে করণীয় বা একাউন্ট উদ্ধারের উপায়

ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারন এবং হ্যাক হলে করণীয় সম্পর্কে আলোচনায় একাউন্ট হ্যাক হয়েছে বোঝার সাথে সাথেই নিচের ধাপ গুলো অনুসরণ করুন।
  • সর্ব প্রথমেই আপনার নিকটস্থ থানাতে আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে এই মর্মে একটি সাধারণ ডায়েরি করুন।
  • তারপর ফেসবুক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে "Forgotten Password" অপশনে প্রবেশ করে একাউন্ট খোলার সময় যে মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল দিয়েছিলেন তা লিখে প্রবেশ করুন।
  • এরপর "Reset Your Password'' এই অপশনে প্রবেশ করে পাসওয়ার্ডটি Reset করে ফেলুন এবং নতুন পাসওয়ার্ড দিয়ে ফেসবুকে লগইন করুন।
  • হ্যাকাররা যদি দ্রুত আপনার মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল ঠিকানা পরিবর্তন করে ফেলে তাহলে রিসেট করেও লাভ হবে না।
  • সেক্ষেত্রে, www.facebook.com/hacked এই ঠিকানায় প্রবেশ করে my account is compromised এই অপশনে প্রবেশ করুন। সেই সাথে আপনার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা সহ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করুন।
  • তারপর "security check" অপশনে ক্যাপচা বা বিশেষ কোড লিখে সাবমিট করুন।
  • অ্যাকাউন্টটি আপনার কিনা তা ভেরিফাই করার জন্য বিভিন্ন প্রশ্ন চাইবে সতর্কতার সাথে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে সাবমিট অপশনে ক্লিক করে ফেসবুকের কাছে অভিযোগটি জমা দিন।
  • আপনার মালিকানা যাচাই হলে ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা মধ্যে আপনার একাউন্টটি ফিরিয়ে দিবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

ফেসবুক একাউন্টহ্যাক হয়েছে কিভাবে বুঝবেন

ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারন এবং হ্যাক হলে করণীয় এই আলোচনায় আমরা এখন জানতে পারবো কিভাবে বুঝতে পারব আমাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে।
  • প্রথমে যে জিনিসটা হবে সেটা হল আপনি আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবেন না। আপনার ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়েও প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রাথমিকভাবে মনে করতে পারেন আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে।
  • আবার অনেক সময় এরকম হয়, আপনার সাথে সাথে হ্যাকার আপনার একাউন্টে ব্যবহার করছে। এক্ষেত্রে খেয়াল করতে হবে আপনার প্রোফাইলে এমন কিছু শেয়ার হয়েছে যা আপনি করেননি অথবা আপনার মেসেঞ্জারে এমন কোন মেসেজ আদান-প্রদান হয়েছে যা আপনি করেননি। তাহলে ধরে নিতে পারেন আপনার অ্যাকাউন্টটি কেউ হ্যাক করেছে।
  • এরকম কিছু ঘটতে থাকলে ফেসবুক অ্যাপ এ প্রবেশ করে উপরের ডানপাশে থ্রি ডট এ প্রবেশ করুন
  • এরপর Setting & privacy এই অপশনে প্রবেশ করুন
  • এখন Setting অপশনে ক্লিক করুন
  • এরপর Password and security অপশনে প্রবেশ করুন
  • এখন Account setting সেটিং-এ প্রথম অপশন Accounts প্রবেশ করুন
  • এখানে দেখতে পাবেন আপনার ডিভাইস ছাড়া অন্য কোন ডিভাইস থেকে আপনার একাউন্টে লগইন করা হয়েছে কিনা। যদি হয়ে থাকে তাহলে বুঝবেন আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে।
  • যদি এরকম হয় তাহলে আপনি আপনার একাউন্টটি দেখে বাকিগুলো রিমুভ করে দিন।

ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করার এপস সম্পর্কে জানুন

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার অ্যাপস এটা লিখে গুগলে সার্চ দিলে অনেক বিজ্ঞ লোকের আর্টিকেল পাওয়া যাবে, যারা বিভিন্ন অ্যাপ সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন যেগুলো ব্যবহার করে সহজেই ফেসবুক হ্যাক করা যায়। আসলেই কি সম্ভব? ফেসবুক কি এত দুর্বল একটা প্ল্যাটফর্ম? ছোট্ট একটা অ্যাপস ব্যবহার করে আপনি ফেসবুকের সমস্ত তথ্য নিয়ে নিবেন? ব্যাপারটা কিন্তু মোটেই সম্ভব না।
এই সস্তা অ্যাপস গুলো শুধুমাত্র আপনাকে ধোকা দেওয়ার জন্যই তৈরি হয়েছে। আপনি যদি আপনার ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কারো সাথে শেয়ার না করেন অথবা অপরিচিত কোন লিংকে প্রবেশ না করেন বা আপনার ল্যাপটপ বা মোবাইল হারানো অথবা চুরি না হয়ে থাকে তাহলে আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা বর্তমানে নাই বললেই চলে।
একটা সময় ছিল যখন সিকিউরিটি অনেক দুর্বল ছিল। তখন এরকম বেশ কিছু ঘটনাও বিশ্বে ঘটেছে। কিন্তু বর্তমানে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের সিস্টেমে অনেক আপডেট সিকিউরিটি নিয়ে এসেছে। তাই ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করার অ্যাপস সম্পর্কে না জেনে আমরা নৈতিক শিক্ষা নিয়ে গড়ে উঠি। মানুষ এবং দেশের কল্যাণে নিজেকে আত্মনিয়োগ করি।

শেষ কথা

২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ফেসবুক প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমে এটা শুধু ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ ও তার সহকর্মীদের মধ্যে হার্ভার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে সারা বিশ্বের প্রায় ২.৯৩ বিলিয়ন ফেসবুকব্যবহারকারী রয়েছে।
আমরা জানি, ফেসবুক একটি ফ্রি ওয়েবসাইট। এই অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে কোন টাকা পয়সার প্রয়োজন হয় না। তাহলে প্রশ্ন আসতেই পারে এই প্রতিষ্ঠান কিভাবে চলে? ফেসবুকের বেশিরভাগ আয় হয় বিজ্ঞাপন থেকে। বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেই আয় করেন।
ফেসবুক ব্যবহারে ভালো দিকের পাশাপাশি অনেক মন্দ দিক রয়েছে। অনেক দেশেই ফেসবুক ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা আছে আবার অনেক দেশেই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ করা আছে আবার অনেক দেশে বয়সের তারতম্য আছে।
প্রিয় পাঠক, ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারন এবং হ্যাক হলে করণীয় এই আলোচনায় আমরা চেষ্টা করেছি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার কারণ এবং হ্যাক হলে করনীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরার। সেই সাথে এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেও কিছু আলোচনা হয়েছে। যদি আপনার উপকারে লেগে থাকে অথবা ভালো লেগে থাকে তাহলে নিশ্চয়ই আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্চিং লিংক প্রোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪