ঘুমানোর সঠিক নিয়ম ও নিয়মিত ঘুমের উপকারিতা

সুস্থ জীবন ধারণের জন্য যে উপাদানগুলো প্রয়োজন তার মধ্যে অন্যতম ঘুম। ঘুমানোর সঠিক নিয়ম ও নিয়মিত ঘুমের উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনায় আমরা চেষ্টা করব ঘুম সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপনের জন্য। সুস্থ জীবন ধারণের জন্য ঘুমানোর সঠিক নিয়ম ও নিয়মিত ঘুমের উপকারিতা এই তথ্যগুলো জানা খুবই প্রয়োজন। আশা করি, ঘুমানোর সঠিক নিয়ম ও নিয়মিত ঘুমের উপকারিতা সম্পর্কে পুরো পোস্টটি পড়লে আপনার অনেক উপকার হবে।
ঘুমানোর সঠিক নিয়ম
শারীরিক এবং মানসিক বিশ্রামের জন্য ঘুমের কোন বিকল্প নেই। পরেরদিন আবার নতুন করে শুরু করার জন্যেও নিয়মিত ঘুমের প্রয়োজন।
পোস্ট সূচিঃ ঘুমানোর সঠিক নিয়ম ও নিয়মিত ঘুমের উপকারিতা
  • ভূমিকা
  • ঘুমানোর সঠিক নিয়ম
  • নিয়মিত ঘুমের উপকারিতা
  • শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন কত ঘন্টা ঘুমানো উচিত
  • কোরআন হাদিসের আলোকে ঘুমানোর নিয়ম
  • শেষ কথা

ভূমিকা

অস্কার হ্যারল্ড বলেছেন "যার ঘুম নেই তার মত দুঃখী কেউ নেই"। সঠিক নিয়মে না ঘুমানোর কারণে আমরা অনেক সময় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারি। মেরুদন্ডকে সজীব ও সুস্থ রাখার জন্য স্বাভাবিক রক্ত চলাচল খুবই জরুরী। আর সেটি যদি সঠিক নিয়মে না হয় তাহলে মেরুদন্ডের হাড়, কশেরুকা, মাংসপেশি ও লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যার ফল হিসাবে শরীরের জমা হয় দীর্ঘ মেয়াদী ব্যথা। তাই ঘুমানোর সঠিক নিয়ম ও নিয়মিত ঘুমের উপকারিতা জানা আমাদের জন্য খুবই জরুরী।

ঘুমানোর সঠিক নিয়ম

আমরা সাধারণত যেকোনো এক পাশে কাত হয়ে শুয়ে থাকি। অনেকে আবার চিৎ হয়ে বা উপর হয়ে শুয়ে থাকা ও পছন্দ করি। ঘুমানোর সঠিক নিয়ম ও নিয়মিত ঘুমের উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনায় এখন আমরা ঘুমানোর সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জানব।
  • বিশেষজ্ঞদের মতে ডান কাথ হয়ে ঘুমানো মস্তিষ্কের জন্য অনেক উপকারী।
  • বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞদের মতে বাম কাঁদ হয়ে ঘুমানো শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী। বাম কাথ হয়ে ঘুমালে হার্টের উপরে চাপ কম পড়ে ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। বাম কাথ হয়ে ঘুমালে পাকস্থলী স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে এবং হজম শক্তি ভালো হয়। বাম কাথ হয়ে ঘুমালে শরীর থেকে বিষাক্ত টক্সিন দ্রুত বের হয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে।
  • ঘুমানোর সবচেয়ে সঠিক নিয়ম হল চিত হয়ে ঘুমানো। এভাবে ঘুমালে মাথা সোজা থাকে এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে। যারা এসিডিটির সমস্যায় ভুগেন তাদের জন্য উত্তম উপায় হল চিত হয়ে ঘুমানো।
  • বিশেষজ্ঞদের মতে সবচাইতে বাজে অভ্যাস হলো উপর হয়ে ঘুমানো। এভাবে ঘুমালে শরীরে অনেক ব্যথা এবং টানটান অনুভূত হয়। তাই বেশিরভাগ চিকিৎসক উপর হয়ে ঘুমানো কে নিষেধ করেছেন।
  • ঘুমানোর সঠিক নিয়ম ও নিয়মিত ঘুমের উপকারিতা এই আলোচনায় আমরা বুঝতে পারলাম ডান কাথ, বাম কাথ এবং চিৎ হয়ে এই তিন ভাবে ঘুমানোর মধ্যেই শারীরিক উপকার বিদ্যমান। তাই আমাদেরকে শুরু করতে হবে ডান কাথ দিয়ে এরপর বাম কাথ হয়ে ঘুমিয়ে যেতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কোনভাবেই যেন উপর হয়ে না ঘুমায়।

নিয়মিত ঘুমের উপকারিতা

নিয়মিত এবং সঠিক মাত্রায় ঘুম না হলে একজন মানুষ ধীরে ধীরে শারীরিক এবং মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। তাই সুন্দর জীবন যাপনের জন্য ঘুমানোর সঠিক নিয়ম ও নিয়মিত ঘুমের উপকারিতা জানা খুবই জরুরী।
  • নিয়মিত ঘুম মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, তাই দিনের বেলায় কাজ এবং রাতের বেলায় ঘুম এভাবে নিজেকে অভ্যাস করে তুলুন।
  • গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ঘুমালে মানুষের মস্তিষ্ক ঠান্ডা থাকে, যার ফলে সবকিছু সহজেই মনে থাকে।
  • প্রতিদিন চেষ্টা করুন একটি নির্দিষ্ট সময় ঘুমাতে এবং নির্দিষ্ট সময় ঘুম থেকে জেগে উঠতে।
  • শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘুম অপরিহার্য, নিয়মিত ঘুম হলে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়।
  • নিয়মিত ঘুমালে দেহের হরমোন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে, ফলে শারীরিক যৌনতার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
  • নিয়মিত ঘুম বয়সের ছাপ পড়তে বাধা দেয়, শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নতুন করে কাজের শক্তি ফিরে পায়।
  • মানসিক চাপ কমাতে ভালো ঘুমের বিকল্প কিছুই নেই, তাই প্রতিদিন নিয়ম করে ঘুমানোর অভ্যাস করুন।
  • নিয়মিত ঘুমের ফলে মানুষের মেজাজ ঠান্ডা থাকে, ফলে কাজে বেশি মনোযোগী হতে পারে।
  • প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমালে মানুষের আয়ু বেড়ে যায়।
  • নিয়মিত ঘুমালে মানুষ সতর্কতার সাথে গাড়ি ড্রাইভিং করতে পারে অথবা রাস্তা পারাপার হতে পারে।
  • তাই সুস্থ জীবন ধারণের ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘুমানোর বিকল্প নেই।

পোষ্টটি লিখেছেন জনপ্রিয় ব্লগারঃ rafidmit

শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন কত ঘন্টা ঘুমানো উচিত

শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের কোন বিকল্প নেই। তবে ঘুমাতে হবে সঠিক নিয়মে এবং নিয়ম করে। খুব বেশি ঘুম আবার মানুষের শরীরকে অসুস্থতার দিকে ঠেলে দেয়। ঘুমানোর সঠিক নিয়ম ও নিয়মিত ঘুমের উপকারিতা এই আলোচনায় মানুষের বয়স বেঁধে ঘুমের সময়ের তারতম্যের লক্ষ্য করা যায়।
  • ০ থেকে ০৩ মাস বয়সী শিশুদের বেলায় ১৪ থেকে ১৭ ঘণ্টা ঘুমানোর প্রয়োজন হয়।
  • ০৪ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা ঘুমের দরকার হয়।
  • ০১ বছর থেকে ০২বছর বয়সী শিশুদের বেলায় ১১ থেকে ১৪ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন।
  • ০৩ থেকে ০৫ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য দৈনিক ১০ থেকে১৩ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন।
  • ০৬ থেকে ১৩ বয়সী শিশুদের প্রতিদিন রাতে অন্তত ০৯ থেকে ১১ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।
  • ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের বেলায় ০৮ থেকে ১০ ঘন্টা দৈনিক ঘুমানো প্রয়োজন।
  • ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী মানুষের জন্য প্রতিদিন ০৭ থেকে ০৯ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন।
  • ২৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মানুষের দৈনিক রাতে ০৭ থেকে ০৯ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন।
  • ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের বেলায় ০৬ থেকে ০৮ ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট।

কোরআন হাদিসের আলোকে ঘুমানোর নিয়ম

ঘুমানোর সঠিক নিয়ম ও নিয়মিত ঘুমের উপকারিতা এ সম্পর্কে আলোচনায় এখন আমরা কোরআন এবং হাদিসের আলোকে ঘুমানোর নিয়ম সম্পর্কে জানব।
একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের প্রতিটি কাজই হবে আল্লাহকে রাজি খুশি করা এবং বিশ্বনবীর দেখানো পথে চলা। ঘুম হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বড় একটি নিয়ামক। আর এই নিয়ামত কিভাবে আদায় করতে হবে সে সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে ।
  • আমরা অনেকেই উপর শুয়ে থাকাকে পছন্দ করি,কোরআন হাদিসের আলোকে তা কখনোই উচিত নয়। নবী (সাঃ) বলেছেন মহান আল্লাহ তা'আলা এভাবে শোয়া পছন্দ করেন না, কারণ এটা জাহান্নামীদের শোয়া।
  • রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু সাল্লাম আরো বলেছেন, যখন তুমি ঘুমাতে যাবে তখন অজু করে যাও, যেমন তুমি সালাত আদায়ের জন্য করো।
  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ঘুমাতে যাওয়ার সময় নিজহাত গলার নিচে রাখতেন এবং এই দোয়া করতেন "আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমতু আহ ইয়া" অর্থ হে আল্লাহ !আপনার নামেই মড়ি, আপনার নামেই জীবিত হই।
  • আবার যখন ঘুম থেকে জেগে উঠে বলতেন "আল হামদু লিল্লাহিল্লাজি আহ ইয়ানা বাদা মা আমতানা অয়া ইলাইহিন নুশুর" অর্থ সেই আল্লাহর জন্য প্রশংসা তিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করলেন এবং তারই দিকে আমাদের পুনরুত্থান হবে। (বুখারী)
  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরো বলেছেন, শোবার সময় তোমরা ঘরের আলো জ্বালিয়ে রেখোনা। (নাসাউ)।
উপরে বর্ণিত হাদিসগুলো অনুযায়ী আমরা ঘুমানোর চেষ্টা করব আল্লাহ আমাদের সবাইকে মানার তৌফিক দান করুক।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক, ঘুমানোর সঠিক নিয়ম ও নিয়মিত ঘুমের উপকারিতা সম্পর্কে এই আলোচনায় ঘুমানোর সঠিক নিয়ম এবং উপকারিতা, সেই সাথে শরীরকে সুস্থ রাখতে কতটুকু ঘুমের প্রয়োজন, এইসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। 
কোরআন হাদিসের আলোকে ঘুমানো নিয়ম নিয়েও আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি, উপরের আলোচনা আপনার অনেক উপকার আসবে। আর এই গুরুত্বপূর্ণ পোস্টটি প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্চিং লিংক প্রোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪