জিংক সমৃদ্ধ ধান-ব্রি ধান ১০০

 বাংলাদেশের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রথম সফলতা পায় ২০১৩ সালে বিশ্বের সর্বপ্রথম জিংকসমৃদ্ধ জাত ব্রি ধান৬২ উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে (ব্রি) জিংক সমৃদ্ধ আরো চারটি জাত যেমন- ব্রি ধান৬৪, ব্রি ধান৭২, ব্রি ধান৭৪ এবং ব্রি ধান৮৪ অবমুক্ত করে।জিংক সমৃদ্ধ ধান-ব্রি ধান ১০০গত ৯ ফেব্রুয়ারি মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষের উপহার হিসেবে ব্রি হাইজিংক সমৃদ্ধ জাত ব্রি ধান১০০ অবমুক্ত করেছে। এটি নিয়ে ব্রি উদ্ভাবিত জিংক সমৃদ্ধ জাতের সংখ্যা এখন ৬টি।

নতুন অনুমোদনকৃত ব্রি ধান১০০ তে জিংক এর পরিমাণ ২৫.৭ মি.গ্রাম/কেজি। এটি মানুষের শরীরে জিংকের যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে তার ৩০-৬০% মিটাতে পারে।
চাষের মৌসুম - বোরো মৌসুম

শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য

  • ব্রি ধান১০০ এ আধুনিক উফশী ধানের সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। 
  • এছাড়া অঙ্গজ অবস্থায় গাছের আকার ও আকৃতি ব্রি ধান৭৪ এর মতো। 
  • এ জাতের ডিগপাতা খাড়া, প্রশস্ত ও লম্বা, পতার রং সবুজ। 
  • পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০১ সেমি.। 
  • জাতটির গড় জীবনকাল ১৪৮ দিন। 
  • ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন গড়ে ১৬.৭ গ্রাম। 
  • চালের আকার আকৃতি মাঝারি চিকন এবং রং সাদা। 
  • জিংকের পরিমাণ ২৫.৭ মি.গ্রাম/কেজি এবং দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৬.৮ ভাগ। এছাড়া প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৭.৮ ভাগ এবং ভাত ঝরঝরে।

প্রচলিত জাতের তুলনায় এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য

  • ব্রি ধান১০০ এর জীবনকাল ১৪৫ থেকে ১৪৭ দিন। 
  • এ জাতের ফলন ব্রি ধান ৭৪ এর চেয়ে সামান্য বেশি হলেও (৪.৫%) ধানের গুণগত মান ভালো।
  • চালের আকৃতি মাঝারি চিকন এবং ব্রি ধান৮৪ এর চেয়ে ফলন প্রায় ১৯% বেশি। 
  • এই জাতের জিংকের পরিমাণ (২৫.৭ মি.গ্রাম/কেজি) ব্রি ধান৭৪ এর চেয়ে বেশি (২৪.২ মি.গ্রাম/কেজি)। 
  • এ জাতটি হেক্টরে ৬.৯-৮.৮ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।

চাষাবাদ পদ্ধতি

এ ধানের চাষাবাদ পদ্ধতি ও সারের মাত্রা অন্যান্য উফশী ধানের মতোই। ১৫ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর অর্থাৎ অগ্রহায়ণের ০১ তারিখ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে বীজ বপন করে ৩৫-৪০ দিনের চারা গাছাপ্রতি ২-৩ টি করে ২০ সেমি. - ১৫ সেমি. দূরত্ব দিয়ে রোপণ করতে হবে। 
মাঝারি উঁচু থেকে উঁচু জমি এ ধান চাষের জন্য উপযুক্ত। সারের মাত্রা ২৬০ঃ১০০ঃ১২০ঃ১১০ঃ১১ কেজি ইউরিয়াঃ টিএসপিঃ এমওপিঃ জিপসামঃ জিংক সালফেট/হেক্টর। 
সর্বশেষ জমি চাষের সময় সবটুকু টিএসপি, অর্ধেক এমওপি, জিপসাম এবং জিংক সালফেলট একসাথে প্রয়োগ করা উচিত। 
ইউরিয়া সার সমান তিন কিস্তিতে যথা রোপণের ১০-১৫ দিন পর ১ম কিস্তি, ২৫-৩০ দিন পর ২য় কিস্তি এবং ৪০-৪৫ দিন পর ৩য় কিন্তি প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক এমওপি ২য় কিস্তি ইউরিয়ার সাথে প্রয়োগ করতে হবে। 
জিংকের অভাব পরিলক্ষিত হলে জিংক সালফেট এবং সালফারের অভাব পরিলক্ষিত হলে জিপসাম ইউরিয়ার মতো উপরিপ্রয়োগ করতে হবে।

রোগবালাই ও পোকামাকড়

ব্রি ধান ১০০ এ রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে অনেক কম হয়। তবে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে বালাইনাশক প্রয়োগ করা উচিত।

ফলন

ব্রি ধান ১০০ এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭.৭ টন / বিঘা প্রতি ২৫ মন। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে অনুকুল পরিবেশে হেক্টর প্রতি ৮.৮ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। 
অনুমোদিত নতুন এই জাতের বীজ উৎপাদন করবে ব্রির কৌলিসম্পদ ও বীজ বিভাগ, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর এবং ব্রির আঞ্চলিক কার্যালয়সমূহ এবং বিদ্যমান সিড নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে বীজ বিতরণ করা হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্চিং লিংক প্রোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪