ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি এবং ডায়াবেটিকস হলে করণীয়

প্রিয় পাঠক, ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি এবং ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণের উপায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে আমরা আজকে আমাদের আর্টিকেলটি সাজিয়েছি। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বেড়েই চলছে। প্রতিটা বাড়িতেই এখন ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে। তাই ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি এবং ডায়াবেটিকস হলে করণীয় এই বিষয়টি জানা আমাদের জন্য খুবই জরুরী। তাই সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ে ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি এবং ডায়াবেটিকস হলে করণীয় বিস্তারিত জেনে নিন।
ডায়াবেটিস কি ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর তথ্য মতে সারা বিশ্বে প্রায় ৫২৯ মিলিয়ন অর্থাৎ ৫২ কোটি নব্বই লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ধারণা করা হচ্ছে ২০৫০ সালের মধ্যে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বর্তমানে তুলনায় দ্বিগুণ হবে। তাই ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি এবং ডায়াবেটিকস হলে করণীয় গুলো জানা থাকলে নিজের এবং পরিবারের জন্য উপকার হবে।
পোস্ট সূচীঃ ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি এবং ডায়াবেটিকস হলে করণীয়
  • ভূমিকা
  • ডায়াবেটিস কি
  • ডায়াবেটিস কি কারনে হয়
  • ডায়াবেটিসের লক্ষণ গুলো কি কি
  • ডায়াবেটিকস হলে করণীয়
  • টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস কি
  • ডায়াবেটিস রেঞ্জ
  • ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা
  • ডায়াবেটিস রোগীর ব্লাড সুগার নীল হয়ে গেলে করণীয়
  • শেষ কথা

ভূমিকা

ডায়াবেটিস রোগ কে বাংলায় বলা হয় বহুমূত্র রোগ। কারণ হিসাবে বলা হয় ডায়াবেটিকস রোগীদের ঘনঘন প্রসব হয়। বিভিন্ন কারণেই একজন মানুষের শরীরে ডায়াবেটিস রোগের বাসা বাঁধতে পারে। যেকোনো বয়সের মানুষেরই ডায়াবেটিস হতে পারে। তবে সাধারণত মধ্যবয়সী বা বয়সী মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। এছাড়াও যাদের ওজন বেশি, যারা বেশি সময় ধরে বসে কাজ করে, যাদের মানসিক চাপ বেশি থাকে, আবার যারা বেশি পরিমাণে ফাস্টফুট জাতীয় খাবার খায়, সেই সাথে যারা কোলড্রিংস ও মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি গ্রহণ করে এবং অনেক সময় বংশগত কারণেও ডায়াবেটিস হতে পারে।

ডায়াবেটিস কি?

ডাযাবেটিস হলো মানুষের শরীরের এমন একটি শারীরবৃত্তীয় অবস্থা, যখন আমাদের দেহের অগ্নাশয় নামক অঙ্গটি ইনসুলিন নামক হরমোন তৈরি করতে পারে না, ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেরে যায় এবং এ অবস্থায় গ্লুকোজ বা শর্করা স্বাভাবিক মাত্রায় আনতে ঔষধ, ইনসুলিন ইনজেকশন, খাবার দাবার নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যয়ামের প্রয়োজন হয়। মূলত এটাই ডায়াবেটিস।অগ্নাশয় ইনসুলিন ও গ্লুকাগণ নামের গুরুত্বপূর্ণ দুটি হরমোন তৈরি করে। 
দেহের গ্লুকোজের মাত্রা কমায় ইনসুলিন আর গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায় গ্লুকাগণ। অগ্নাশয় এক ধরনের পাচক রস তৈরি করে যা হজমে সাহায্য করে। গ্লুকোজ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগ হয় আবার গ্লুকাগণ অতিরিক্ত কমে গেলেও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া দুটোই ক্ষতিকর। 
অর্থাৎ, মানব শরীরে অগ্ন্যাশয় একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যে অঙ্গের কার্যকারিতা কমে গেলে ডায়াবেটিসের মত দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ডায়াবেটিকস হওয়ার আগে অবশ্যই আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অগ্ন্যাশয় এর ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি

ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি এবং ডায়াবেটিকস হলে করণীয় এই পোস্ট সুচিতে এখন আমরা আলোচনা করব ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি? ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি জানার মাধ্যমে আমরা এ রোগ সম্পর্কে সচেতন হতে পারব। তাই সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ে ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি সে সম্পর্কে জেনে নেই।
  • ঘনঘন প্রসাব করা।
  • তীব্র পানি পিপাসা।
  • ঘন ঘন খুদা লাগা বা ক্ষুদা বেড়ে যাওয়া।
  • দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা ঝাপসা দেখা।
  • একটুতেই ক্লান্তি ভাব অনুভব করা।
  • শরীরের ওজন দ্রুত কমে যাওয়া।
  • মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া।
  • যেকোনো কিছুতেই বিরক্তি প্রকাশ করা।
  • শরীরের যেকোন স্থানে কেটে গেলে বা ক্ষত হলে সুস্থ হতে সময় লাগা।
  • শরীরের যে কোন স্থানে চুলকানি হওয়া।
  • চামড়া ও ত্বক শুষ্ক হওয়া বা শুকিয়ে যাওয়া।
  • হাত অথবা পায়ে গরম অনুষ্ঠিত হওয়া সেই সাথে ঝিমঝিম ভাব হওয়া।
  • মাথা ঘোরা সেই সাথে মাথা ব্যথা অনুভূত হওয়া।
প্রিয় পাঠক, পড়ে বর্ণিত কারণ গুলো যদি আপনার সাথে ঘটতে থাকে তাহলে অবশ্যই ব্লাড সুগার পরীক্ষা করে নিন এবং ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

ডায়াবেটিস কি কারনে হয়

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই সর্বোত্তম ব্যবস্থা এ কথাটি আমরা সবাই জানি। তাই ডায়াবেটিস কি কারনে হয় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আমাদের জানা খুবই জরুরী। আপনি যদি ডায়াবেটিকস কি কারনে হয় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি জানতে চান তাহলে সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। তাহলে চলুন দেরি না করে ডায়াবেটিস কি কারনে হয় বিষয়গুলো জেনে নেই।
  • শরীরের ওজন উচ্চতার অনুযায়ী বেড়ে যাওয়া।
  • চিনিজাতীয় খাবার অতিরিক্ত গ্রহণ করা।
  • ফাস্টফুড বা জাং জাতীয় খাবার বেশি গ্রহণ করা।
  • শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম না করা।
  • সময় মত খাবার গ্রহণ না করা।
  • সঠিক সময়ে না ঘুমানো বা অতিরিক্ত ঘুমানো।
  • ধূমপান অ্যালকোহল জাতীয় খাবার গ্রহণ করা।
  • অতিরিক্ত মানসিক চিন্তা বা হতাশাগ্রস্ত হওয়া।
  • একটুতেই অনেক বেশি টেনশন করা।
  • নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি না খাওয়া।
  • কীটনাশক বা রাসায়নিক দ্রব্য মিশানো খাবার খাওয়া।
  • অনেক সময় বংশগত কারণেও ডায়াবেটিস হতে পারে।
প্রিয় পাঠক, উপরে বর্ণিত কারণ গুলো ছাড়াও আরো অনেক কারণে ডায়াবেটিস হতে পারে। তবে প্রধান প্রধান কারণগুলো এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আমরা যথাসম্ভব উপরের কারণগুলো এড়িয়ে চলি এবং সুশৃংখল জীবন যাপন করি ডায়াবেটিস মুক্ত জীবন গড়ি।

ডায়াবেটিকস হলে করণীয়

ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি এবং ডায়াবেটিকস হলে করণীয় এই আলোচ্য সূচিতে এখন আমরা আলোচনা করব ডায়াবেটিস হলে করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে। ডায়াবেটিস যেহেতু একটা জটিল রোগ তাই ডায়াবেটিস হলে করণীয় বিষয়গুলো জানা আমাদের জন্য খুবই জরুরী। আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। তাই চলুন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের উপায় গুলো জেনে নেই ।
  • একজন ডায়াবেটিস রোগীকে প্রথমেই যে জিনিসটা মানতে হবে সেটা হলো ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দৈনিক খাবারের তালিকা তৈরি করে নেওয়া।
  • প্রতি বেলার খাবার সময় মত খাওয়া এবং ভাতের পরিবর্তে রুটি খাওয়ার অভ্যাস করা। তবে অবশ্যই মাঝারি সাইজের তিনটি রুটির বেশি নয়।
  • খাবারের তালিকায় সবজির পরিমাণ বাড়িয়ে দিন এবং প্রতিদিন সবজির তালিকায় করলা রাখুন।
  • এরপরেই যে জিনিসটা করতে হবে সেটা হলো প্রতিদিন নিয়ম করে কমপক্ষে ৪৫ মিনিট হাটা বা ব্যায়াম করা যাতে শরীর থেকে ঘাম বের হয়।
  • মিষ্টি জাতীয় খাবার একেবারেই পরিহার করা এবং সেই সাথে ফাস্টফুড, কোল্ড ড্রিংকস বা এনার্জি জাতীয় কোন ড্রিংকস পান করা থেকে বিরত থাকা।
  • অতিরিক্ত লবণ ও চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করুন।
  • প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন রকমের ফলমূল রাখুন।
  • প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত ছয় থেকে আট ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
  • ধূমপান এবং মধ্যপানের অভ্যাস থাকলে অবশ্যই তা পরিত্যাগ করুন।
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করুন এবং কখনোই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বাদ দেওয়া যাবে না।
  • মাঝে মাঝেই রক্তের সুগার টেস্ট করে নিন, যদি সুগার লেভেল বেড়ে যায় তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।
  • প্রতি বছরের কমপক্ষে একবার করে হলেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নিন।
মনে রাখবেন প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই সর্বোত্তম ব্যবস্থা। তাই উপরে বর্ণিত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলো মেনে চলার চেষ্টা করুন এবং সুস্থ জীবন যাপন করুন।

টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস কি

ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি এবং ডায়াবেটিকস হলে করণীয় এই আলোচ্য সূচিতে এখন আমরা আলোচনা করব টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস কি। আমরা অনেকেই জানিনা ডায়াবেটিকস কত প্রকার। যাদের ডায়াবেটিস হয়েছে বা যাদের পরিবারের কেউ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বা আমরা যারা অনেকেই স্বাস্থ্য সচেতন আমাদের প্রত্যেকে কি টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস সম্পর্কে জানা উচিত। তাই চলুন পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে জেনে নেই টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস কি?
ডায়াবেটিস মূলত চার ধরনের। যার মধ্যে রয়েছে টাইপ ১, টাইপ ২, জেসটেশনাল ও অন্যান্য। আমাদের দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যার প্রায় ৯৫ ভাগই টাইপ ২ নামক ডাইবেটিসে আক্রান্ত হয়।
টাইপ ১ঃ টাইপ ১ ডাইবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সাধারণত টাইপ ২ এর তুলনায় অনেক কম। টাইপ ১ ডায়াবেটিস সাধারণত বাচ্চাদের বেলায় বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের বেলায় হয়ে থাকে। যে সকল মানুষের অগ্নাশয়ে ইনসুলিন খুব সামান্য বা একেবারেই তৈরি হয় না এ অবস্থার প্রকাশ হাওয়াকে টাইপ ১ ডায়াবেটিকস বলে। 
এখন পর্যন্ত টাইপ ১ হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়নি। তবে বংশগত কারণে বা পরিবেশগত কারণে টাইপ ১ ডায়াবেটিস হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। টাইপ ১ ডায়াবেটিকস কারো শরীরে দেখা দিলে ইনসুলিন নেওয়ার কোন বিকল্প নেই। ইনসুলিন গ্রহণ না করলে যে কোন সময় রোগী মারাও যেতে পারে।
টাইপ ২ঃ টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর বেলায় মানুষের অগ্ন্যাশয় এর ইনসুলিন তৈরীর কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় না তবে শরীরে ইনসুলিন গ্রহণে বাধা দেয় এবং এর ফলে রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ বেড়ে যায়। এই অবস্থা তৈরি হওয়াকে মূলত টাইপ ২ ডায়াবেটিস বলে। 
টাইপ ২ ডায়াবেটিস আংশিকভাবে প্রতিরোধ যোগ্য। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখলে অনেকটাই টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্ভব। টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ একই রকম। ঘন ঘন পেশাব হওয়া, গলা শুকিয়ে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি।

ডায়াবেটিস রেঞ্জ

ডায়াবেটিস রেঞ্জ বা ডাইবেটিস মাত্রা বা রক্তে সুগারের পরিমাণ কত তা জানা আমাদের জন্য খুবই জরুরী। কারণ এই মাত্রা জানার মাধ্যমেই আমরা নির্ণয় করতে পারি আমাদের ডায়াবেটিস হয়েছে কিনা অথবা যদি হয়েই থাকে তাহলে করণীয় বিষয়গুলো সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়। তাই ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি এবং ডায়াবেটিকস হলে করণীয় এই আর্টিকেলে এখন আমরা জানবো ডায়াবেটিস এর রেঞ্জ সম্পর্কে।
ডায়াবেটিস নির্ণয়ের সঠিক এবং প্রধান ধাপ হল খাবারের মাধ্যমে গ্লুকোজ গ্রহণ করা। একজন মানুষ ডাইবেটিসে আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা বুঝার জন্য সর্বপ্রথম সকালবেলা খালি পেটে তার রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। তারপর ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ শরবত হিসাবে গ্রহন করার ২ ঘন্টা পর তার রক্তের নমুনা আবার গ্রহণ করা হয়।
গ্লুকোজ খাওয়ার আগে যদি রক্তে সুগারের পরিমাণ ৫.৭ থাকে তাহলে ধরে নেওয়া হয় আপনার ডায়াবেটিস হয়নি। তবে যদি রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ ৬.৫ হয়ে যায় তাহলে ধারণা করা হয় ডাইবেটিস হয়েছে। বর্তমানে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করার আরো সহজ একটি উপায় হল এইচবিএ১ সি নামের পরীক্ষা। এ পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের রক্তের গড় অবস্থা নির্ণয় করা হয়। 
দিনের যেকোনো সময় এ পরীক্ষা করা যায়। এ পরীক্ষার জন্য একবারই রক্ত দিতে হয় দুবারের প্রয়োজন নেই। তবে অবশ্যই ভালো মানের ল্যাবরেটরীতে বা হসপিটালে এ পরীক্ষা করতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য যে কয়েকটি উপায় রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় একটি উপায় হল ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা। তাই ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি এবং ডায়াবেটিকস হলে করণীয় এই আলোচ্য সূচীতে এখন আমরা আলোচনা করব ডায়াবেটিস হলে একজন ডায়াবেটিকস রোগের খাদ্য তালিকায় কি কি থাকতে হবে সে সম্পর্কে। চলুন পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ে জেনে নেই ডায়াবেটিস রোগের খাদ্য তালিকা সম্পর্কে।
  • যে সকল খাবার ধীরে ধীরে শোষিত হয় যেমন- আটার রুটি, ভুট্টার খই, লাল চালের ভাত ইত্যাদি।
  • সমস্ত রকমের ফলমূল তবে টক এবং তিতা জাতীয় ফলমূল হলে ভালো হয়।
  • সমস্ত রকমের শাক-সবজি তবে যে সকল শাক-সবজির মাটির নিচে হয় যেমন- আলু, মুলা, গাজর এই সকল শাকসবজি পরিমাণ মতো খেতে হবে।
  • প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন- মাছ, মাংস, ডিম বাদাম।
  • তরকারিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন রকমের মসলা যেমন- আদা, রসুন, পেঁয়াজ, হলুদ, গোলমরিচ, লবঙ্গ ইত্যাদি।
  • প্রতিটা খাবার গ্রহণের অন্তত দুই ঘণ্টা পরপর খেতে হবে একবারে বেশি করে খাওয়া যাবে না।

ডায়াবেটিস রোগীর ব্লাড সুগার নীল হয়ে গেলে করণীয়

ডায়াবেটিস রোগীর ব্লাড সুগার নীল হয়ে গেলে করণীয় এই বিষয়টি একজন রোগীর জন্য এবং তার কাছের মানুষের জন্য জানা খুবই জরুরী। কারণ ডায়াবেটিস রোগীর ব্লাড সুগার নীল হয়ে গেলে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে স্টক করে মারাও যেতে পারে। তাই পুরো পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ে জেনে নিন ডায়াবেটিস রোগীর ব্লাড সুগার নীল হয়ে গেলে করণীয়। 
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের বেলায় সবচাইতে বেশি সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনভাবেই ব্লাড সুগার নীল হয়ে না যায়। ব্লাড সুগার নীল হয়ে গেলে গলা প্রচুর শুকিয়ে আসবে, হাত পা থর থর করে কাপবে, প্রচন্ড রকমের ক্ষুদা অনুভব হবে, শরীরের মধ্যে ঝিমঝিম ভাব হবে এমনকি চোখে ঝাপসা ও দেখতে পারেন। 
এরকম লক্ষণ দেখা দিলে কোন ভাবেই অবহেলা করবেন না। কারণ এই অবস্থা দেখা দেওয়া মাত্র যদি কোন কারণে আপনি মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যান তাহলে স্টক করবেন। তাই এমন কিছু লক্ষণ অনুভূত হলে সাথে সাথেই যেকোনো খাবার পরিমিত খেয়ে নিন। তবে মনে রাখবেন কোনভাবেই খুবই বেশি পরিমাণে খাওয়া যাবে না।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক, ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি এবং ডায়াবেটিকস হলে করণীয় এই আলোচ্য সূচীতে আমরা চেষ্টা করেছি ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কি কি এবং ডায়াবেটিকস হলে করণীয় এর সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য উপস্থাপন করার। আপনি যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন অথবা আপনার পরিবারে ডায়াবেটিস থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই এই আর্টিকেলটি আপনার অনেক উপকারে আসবে। আর এই গুরুত্বপূর্ণ পোস্টটি অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্চিং লিংক প্রোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪