কবিরা গুনাহ কি? কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায়

প্রিয় পাঠক, কবিরা গুনাহ কি? কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায় এই পাঠ্য সূচিতে আমরা আজকে কবিরা গুনাহ কি? কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায় এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। আপনি যদি একজন মুসলমান হিসাবে কবিরা গুনাহ কি? কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায় জানার প্রয়োজন মনে করেন তাহলে এই পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
কবিরা গুনাহ কি কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায়
ইসলামের বিধি নিষেধ লংঘন করা বা না মানাই হল পাপ। কবিরা শব্দের অর্থ বড় অর্থাৎ কবিরা গুনাহ অর্থ বড় গুনাহ। তওবা না করা পর্যন্ত এবং আল্লাহ পাক মাফ না করা পর্যন্ত এই গুনাহ থেকে পরিত্রাণের কোন উপায় নেই। তাই একজন মুসলমানের কবিরা গুনাহ কি? কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায় এ সম্পর্কে জানা খুবই জরুরী।
পোস্ট সূচীঃ কবিরা গুনাহ কি? কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায়
  • ভূমিকা
  • কবিরা গুনাহ কি?
  • কবিরা গুনাহ কত প্রকার ও কি কি?
  • কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায়
  • কবিরা গুনাহ এর কিছু তালিকা
  • কবিরা গুনাহের পরিণতি
  • শেষ কথা

ভূমিকা

আল্লাহ পাক মানুষকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার ইবাদতের জন্য। কিন্তু আমরা দুনিয়াতে আসার পর বিভিন্ন লোভে পড়ে অনেক অপরাধমূলক কাজ করে থাকি। যা কুরআন এবং হাদিস বিরোধী। আর এই কোরআন এবং হাদিস অনুযায়ী জীবন যাপন না করা হলো গুনাহের কাজ। গুনাহ ছোট হোক বা বড় হোক তার জন্য অবশ্যই শাস্তির বিধান রয়েছে। তাই আমাদের সবার উচিত আল্লাহ ও তার প্রেরিত নবী রাসূলগণের দেখানো পথে চলা এবং সেই অনুযায়ী জীবন যাপন করা। তাহলেই আমরা ইহকাল এবং পরকালে সফলকামি হব।

কবিরা গুনাহ কি?

কবিরা গুনাহ কি? কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায় এই আলোচ্য সূচীতে আমরা এখন আলোচনা করব কবিরা গুনাহ কি? আপনি যদি কবিরা গুনাহ কি? এ সম্পর্কে জানতে চান তাহলে সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। তাহলে চলুন আর দেরি না করে শুরু করা যাক কবিরা গুনাহ কি? এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনায়। 
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে সৃষ্টি জীবের সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে তৈরি করেছেন। এবং আমাদের সামনে দুটি পথ দিয়ে দিয়েছেন, একটি ভালো পথ অপরটি মন্দ পথ। যদি আমরা ভালো পথে চলি তাহলে তিনি আমাদেরকে জান্নাত দান করবেন আর যদি মন্দ পথে চলে তাহলে তিনি আমাদেরকে দিবেন জাহান্নাম। এই মন্দ পথকেই কুরআনের ভাষায় গুনাহ দিয়ে ব্যক্ত করা হয়। আর আমরা জানি যে, গুনাহ দুই প্রকার ১/কবিরা গুনাহ ২/সগিরা গুনাহ।
নিম্নে কবিরা গুনাহ এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ তুলে ধরা হলোঃ
কবিরা শব্দের অর্থ হলঃ বড় আর গুনাহ শব্দের অর্থ হলো পাপ। সুতরাং কবিরা গুনাহের শাব্দিক অর্থ হলো বড় পাপ/গুনাহ।
পরি ভাষায়ঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সমস্ত কাজ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন এবং এর বিপরীতে মারাত্মক শাস্তির ব্যবস্থা ও কঠোর হুঁশিয়ারি বাক্য উচ্চারণ করেছেন তাকে কবিরা গুনাহ বলা হয়। কুরআনে কারীমের মধ্যে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
ان تجتنبوا كبائر ما تنهون عنه نكفر عنكم سيأتكم وندخلكم مدخلاكريما
অর্থঃ যেসব সম্পর্কে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে তোমরা যদি সেগুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারো তাহলে আমি তোমাদের সকল ভুল সমূহ ক্ষমা করে দিব এবং তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাবো।

কবিরা গুনাহ কত প্রকার ও কি কি?

কবিরা গুনাহ কি? কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায় এই আর্টিকেলে এখন আমরা আলোচনা করব কবিরা গুনা কত প্রকার ও কি কি? কবিরা গুনাহ কত প্রকার ও কি কি এ সম্পর্কে আমাদের নিজেদের জানা এবং অন্য কেউ এ সম্পর্কে জানানো খুবই জরুরী। প্রিয় পাঠক! কবিরা গুনাহ সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে।
১/বান্দার সাথে সম্পর্কিত গুনাহ
২/আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত গুনাহ
যে সকল কবিরা গুনাহ বান্দার সাথে সম্পর্কিত সেগুলো আল্লাহ তাআলা কখনোই ক্ষমা করবেন না, সেগুলোর ক্ষমা ওই বান্দার থেকেই চেয়ে নিতে হবে। যেমনঃ আমি কারো মনে কোনভাবে কষ্ট দিলাম, চাই এই কষ্ট দেয়াটা টাকা আত্মসাৎ করার মাধ্যমে হোক অথবা তাকে আঘাত করার মাধ্যমে হোক বা অন্য যেকোনো উপায়ে হোক।
এর জন্য ওই বান্দা থেকেই আমাকে ক্ষমা চাইতে হবে অন্যথায় কিয়ামতের দিন আমার আমলনামায় যেই সোয়াব রয়েছে সেটা নিয়ে ওই বান্দার আমলনামায় দিয়ে দেয়ার মাধ্যমে তাকে খুশি করা হবে।
আর যে কবিরা গুনাহের সম্পর্ক আল্লাহর সাথে, যেমন নামাজ না পড়া রোজা না রাখা। অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশ সমূহ পালন না করা এবং তিনি যা করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বেঁচে না থাকা। যেমন মদ খাওয়া, মৃত প্রাণী ভক্ষণ করা ইত্যাদি। এ সকল অপরাধসমূহ আল্লাহ পাক চাইলে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কেননা এ সকল গুনাহ আল্লাহর নাফারমানির সাথে সম্পর্কিত ।
উল্লেখ্য, উভয়প্রকার কবিরা গুনাহ থেকেই আমাদের বেঁচে থাকা উচিত অন্যথায় আমাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা। এবং উভয়প্রকার গুনাহ আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করতে পারেন। তার সেই ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা বান্দার হক সম্পর্কিত গুনাহ ক্ষমা করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায়

প্রিয় পাঠক! আপনি কি কবিরা গুনাহ থেকে বাচার উপায় সম্পর্কে জানতে চান? যদি আপনি জানতে চান তাহলে সঠিক জায়গাতে এসেছেন। এখানে আমরা কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ে কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে জেনে নিন। 
একজন মানুষ কেবলমাত্র তার সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুশোচনার মাধ্যমেই সকল প্রকার কবিরা গুনাহ থেকে মুক্তি পেতে পারে, তবে এই অনুশোচনার কিছু পদ্ধতি রয়েছে, নির্ধারিত সেই পদ্ধতিতে যদি অনুশোচনা হয় তাহলেই কেবল সেই অনুশোচনা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে এবং উক্ত কবিরা গুনাহ থেকে তিনি ক্ষমা করবেন। নিম্নে সেগুলো তুলে ধরা হলোঃ
  • অন্তর থেকে নিজ কৃত গুনাহের কারণে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়া
  • ভবিষ্যতে আর উক্ত গুনাহ না করার প্রতিশ্রুতি করা
  • অবিলম্বে সকল প্রকার গুনাহ ছেড়ে দেওয়া
  • ছগিরা গুনাহ বা ছোট ছোট গুনাহ থেকেও নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা, 
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলিয়াছেনঃ হে আয়েশা! তুমি নিজেকে ছোট গুনাহ থেকেও বাঁচিয়ে রাখো।
কেননা এই ছোট গুনাহই এক সময় বড় গুনাহের দিকে নিয়ে যায়।
  • আর গুনাহ যদি হয় বান্দার সাথে সম্পর্কিত তাহলে অনতিবিলম্বে উক্ত বান্দা থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া
  • মনে মনে এই দোয়া বেশি বেশি পড়া
ربنا لا تزغ قلوبنا بعد اذ هديتنا
অর্থঃ হে আল্লাহ আপনি আমাকে হেদায়েত দেয়ার পরে আমার অন্তরকে বক্র করে দিয়েন না।

কবিরা গুনাহ এর তালিকা

কবিরা গুনাহ কি? কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায় এই আলোচ্য সূচিতে এখন আমরা জানবো কয়েকটি কবিরা গুনাহের তালিকা সম্পর্কে। আর এই তালিকা গুলো জানার মাধ্যমে অবশ্যই আমরা এই সকল গুনাহ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করব। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কয়েকটি কবিরা গুনাহ এর তালিকা সম্পর্কে।  
  • ১/আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
ان الشرك لظلم عظيم 
নিশ্চয় শিরিক বড় জুলুম
  • মিথ্যা কথা বলা
  • অন্যায় ভাবে কারো মাল আত্মসাৎ করা
  • কারো উপর জুলুম করা
  • বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত নামাজ পরিত্যাগ করা
  • বাবা-মাকে কষ্ট দেওয়া
  • আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা
  • হারাম মাল ভক্ষণ করা
  • বেপর্দায় চলাফেরা করা
  • গান শোনা
  • ছবি দেখা
  • প্রয়োজন ব্যতীত ছবি ওঠা
  • অফিস টাইমে অফিসের কাজ ব্যতীত নিজের ব্যক্তিগত কাজ করা
  • রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পরেও না রাখা
  • ছেলে মেয়ে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত হওয়া
  • জুমার আজান হয়ে যাওয়ার পর দুনিয়াবী কোন কাজে লিপ্ত থাকা
  • চুরি করা
  • জেনা করা
  • প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা
এছাড়াও আরো অনেক কবিরা গুনাহ রয়েছে, তবে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি তুলে ধরা হলো, যেগুলো আমাদের সমাজে সচরাচর বেশি হয়ে থাকে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সকল প্রকার কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন।

কবিরা গুনাহের পরিণতি

কবিরা গুনাহ কি? কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায় এই আলোচ্য সূচিতে আমরা কবিরা গুনাহ সম্পর্কে অনেকগুলো বিষয় জেনে ফেলেছি। কোরআন হাদিসের আলোকে প্রত্যেকটা জীবকেই তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে হবে। তাই কবিরা গুনাহের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে জেনে আমাদের সে অনুযায়ী চলতে হবে। তাই চলুন কবিরা গুনাহের পরিণত সম্পর্কে জেনে নেই।
কবিরা গুনাহের পরিণতি খুবই ভয়াবহ। এমন কি যে, কোন ব্যক্তি যদি তার জীবনে একটিমাত্র কবিরা গুনাহ করে এবং উক্ত গুনাহ নিয়ে সে মৃত্যুবরণ করে(তাওবা না করে) তাহলে তার এই একটি গুনাহই তাকে জাহান্নামের আগুনে পোড়াবে।
কবিরা গুনাহের ব্যাপারে কুরআনে কারীমের বিভিন্ন জায়গায় বলা হয়েছে যে, কবিরা গুনাহ কারী ব্যক্তি চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে। কতইনা ভয়াবহ ধমকি! আল্লাহ আমাদের সবাইকে সকল প্রকার গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক, কবিরা গুনাহ কি? কবিরা গুনাহ থেকে বাঁচার উপায় এই আলোচ্য সূচিতে আমরা চেষ্টা করেছি এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার জন্য। কুরআনে কারিমে বর্ণিত চিরস্থায়ী জাহান্নাম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকা। নির্ধারিত শাস্তি ভোগ করার পরে সেও জান্নাতে প্রবেশ করবে। আশা করি সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে আপনি অনেক উপকৃত হয়েছেন। আর পোস্টটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্চিং লিংক প্রোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪