ছাদে ফলের বাগান করার পদ্ধতি ও ছাদ বাগানের পরিচর্যা

ছাদে ফলের বাগান করার পদ্ধতি ও ছাদ বাগানের পরিচর্যা এই আলোচ্য সূচীতে আমরা আজকে আলোচনা করব ছাদে ফলের বাগান করার পদ্ধতি ও ছাদ বাগানের পরিচর্যা কিভাবে করা যায় সে সম্পর্কে। আপনি যদি ছাদে ফলের বাগান করার পদ্ধতি ও ছাদ বাগানের পরিচর্যা সম্বন্ধে জানতে চান তাহলে সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। আমরা আশা, করি ছাদে ফলের বাগান করার পদ্ধতি ও ছাদ বাগানের পরিচর্যা এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়লে সাদ বাগান করার ক্ষেত্রে আপনি অনেক উপকৃত হবেন।
বাড়ির ছাদে ফলের বাগান করার পদ্ধতি ও ছাদ বাগানের পরিচর্যা
ছাদে ফলের বাগান এখন আর কোনো সৌখিনতা নয়। পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য এবং বিষমুক্ত ফলমূল খাওয়ার জন্য শহর অঞ্চলের মানুষের ছাদ বাগানের কোন বিকল্প নেই। যেহেতু বাড়ির ছাদে জায়গা কম তাই এখানে পরিকল্পনা করে গাছ লাগাতে হবে। বাড়ির ছাদে ফলের বাগান করার পদ্ধতি ও ছাদ বাগানের পরিচর্যা সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়লে আপনি এ সম্পর্কে বিস্তারিত একটা ধারণা পাবেন।

ভূমিকা

ইট পাথরের দালান কোঠায় ভরা এই ব্যস্ত নগরীতে ছাদবাগান এনে দিতে পারে এক টুকরো প্রশান্তির ছোঁয়া। বর্তমানে রাজধানী সহ দেশের আনাচে-কানাচে প্রতিটা বাড়ির ছাদের দিকে তাকালেই কোন না কোন গাছ দেখতে পাওয়া যায়। এই ছাদ বাগান পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পরিবেশের ও ভারসাম্য রক্ষা করে চলছে। 
ছাদবাগান আমরা অনেকেই করি, কিন্তু পরিকল্পনা করে তৈরি করি না। বাড়ির ছাদে ফলের বাগান করার পদ্ধতি ও ছাদ বাগানের পরিচর্যা পুরো পোস্টটি পড়লে কিভাবে পরিকল্পনা করে ছাদ বাগান করতে হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট একটা ধারণা পাবেন।

ছাদে ফলের বাগান করার পদ্ধতি

ছাদে ফলের বাগান করার পদ্ধতি ও ছাদ বাগানের পরিচর্যা এই পোষ্ট সূচিতে এখন আমরা আলোচনা করব বাড়ির ছাদে ফলের বাগান করার পদ্ধতি নিয়ে। জমিতে ফলের বাগান করা আর বাড়ির ছাদে ফলের বাগান করার মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেহেতু বাড়ির ছাদে জায়গা কম তাই এখানে গাছ নির্বাচন করার সময় অবশ্যই হাইব্রিড জাতের খাটো আকারের গাছ নির্বাচন করতে হবে। যেগুলোতে জায়গা কম লাগবে কিন্তু ফলন বেশি হবে।
আপনি দুই উপায়ে বাড়ির ছাদে ফলের বাগান করতে পারবেন। প্রথমটি হল, কাঠ বা লোহার ফ্রেম তৈরি করে তার ভিতর মাটি দিয়ে বেডের মত তৈরি করা। আর দ্বিতীয়টি হল টবের ভিতর গাছ লাগিয়ে।
কাঠ বা লোহার ফ্রেম দিয়ে বাগান তৈরি
  • কাঠ বা লোহার ফ্রেম দিয়ে বাগান তৈরির ক্ষেত্রে প্রথমে সুন্দর করে নকশা বা ডিজাইন করে নিতে হবে।
  • এরপর কাঠ বা লোহার প্রেম দিয়ে বেডের মত করে তৈরি করতে হবে।
  • ফ্রেমর দৈর্ঘ্য কতটুকু হবে তা নির্ভর করবে ছাদের জায়গার উপর।
  • একটি স্বাভাবিক ফ্রেমর দৈর্ঘ্য হবে ৪ থেকে ৫ ফুট।
  • একটা বেড থেকে আর একটা বেডে মাঝখানে ফাঁকা রাখতে হবে যাতে চলাচলের সুবিধা হয়।
  • ফ্রেমর উচ্চতা হবে ২.৫ ফুট।
  • অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন এবং আলো বাতাস চলাচলের জন্য ফ্রেমটি ছাদ থেকে ২ ইঞ্চি উঁচু হতে হবে।
  • কাঠ বা লোহার ফ্রেমর ভিতর ২ ফিট উচ্চতা করে মাটি দিয়ে ভরাট করতে হবে।
  • ভরাট কৃত মাটি অবশ্যই ডলোচুন দিয়ে শোধন করে নিতে হবে। অথবা কার্বোফুরান জাতীয় দানাদার কীটনাশক মিশিয়ে দিতে হবে।
জিও গ্রো ব্যাগ বা টপ দিয়ে বাগান তৈরি
  • প্লাস্টিকের টব, টিনের ড্রাম বা আধুনিক জিও গ্রো ব্যাগ ছাদ বাগানে গাছ রোপনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন।
  • জিও গ্রো ব্যাগ অনেক মজবুত এবং টেকসই। তাই আমাদের পরামর্শ থাকবে জিও গ্রো ব্যাগ ব্যবহার করার জন্য।
  • প্লাস্টিকের টব বা টিনের ড্রাম ব্যবহার করলে পাত্রের তলায় ২ ইঞ্চি পুরু ইটের খোয়া দিতে হবে। যাতে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যায় এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে। তবে জিও গ্রো ব্যাগ এর ক্ষেত্রে এগুলোর প্রয়োজন নেই।
  • গাছের সাইজ অনুযায়ী পাত্রের আকার নির্ধারণ করতে হবে।
  • পূর্বের পরীশোধনকৃত মাটি ও জৈব সার সমান অনুপাতে মিশাতে হবে।
  • পাত্রের তিনভাগের দুই ভাগ জৈব সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে ভরাট করতে হবে।
  • ছাদের পশ্চিম ও উত্তর পাশে বড় সাইজের গাছগুলো রাখতে হবে যাতে ছাদে পর্যাপ্ত আলো বাতাস পড়ে।
উপরে বর্ণিত পয়েন্ট গুলো অনুসরণ করে আপনি সহজেই আপনার বাড়ীর ছাদে ফলের বাগান করতে পারেন।

ছাদ বাগানের পরিচর্যা

এতক্ষণ আমরা ছাদে ফল বাগান করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করলাম। আপনি যদি জানতে চান কিভাবে ছাদ বাগানের পরিচর্যা করবেন তাহলে পুরো পোষ্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। ছাদ বাগানের পরিচর্যা সম্পর্কে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ছাদ বাগানের পরিচর্যা সম্পর্কে।
  • ছাদ বাগানের পরিচর্যার মধ্যে প্রথমেই যেটা আসে সেটি হল অবশ্যই ছাদে জলছাদ থাকতে হবে।
  • ফল গাছের প্রয়োজনে যেরকম পানি দিতে হবে ঠিক তেমনি পানি নিষ্কাশনও ছাদবাগানে খুবই জরুরী একটা বিষয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার সুব্যবস্থা রাখতে হবে।
  • গাছ যাতে বাতাসে হেলে না পরে সেজন্যে প্রতিটা গাছে আলাদা করে খুঁটি দিতে হবে।
  • প্রতিটি গাছের গোড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে কোনোভাবেই আগাছা জন্মাতে দেওয়া যাবে না।
  • প্রতি তিন থেকে পাঁচ দিন পর পর প্রতিটা টবের পানি পরিবর্তন করে দিতে হবে। কারণ পানি বেশি দিন থাকলে সেখানে মশার উপদ্রব বেশি হবে।
  • ২০ থেকে ২৫ দিন পরপর গাছের গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে যাতে সহজেই অক্সিজেন চলাচল করতে পারে।
  • প্রতিটা ফল গাছে বছরে অন্তত দুবার সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম বার বর্ষা শুরু হওয়ার আগে এবং দ্বিতীয়বার বর্ষা শেষ হওয়ার পরে।
  • পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই আক্রান্ত অংশ ছিড়ে পা দিয়ে পিষে ফেলতে হবে। কীটনাশক ব্যবহার না করে প্রয়োজনে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে।

ছাদ বাগানে যে সকল ফলের গাছ লাগাবেন

আপনি আপনার ছাদ বাগানে কি গাছ লাগাবেন সেটা নিয়ে কি ভীষণ চিন্তিত? ছাদ বাগানে যে সকল ফলের গাছ লাগাবেন এই পোস্টটি সম্পূর্ণভাবে পড়লে আপনার এই প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ছাদ বাগানে যে সকল ফলের গাছ লাগাবেন।
বাসার ছাদে কলম করে তৈরি করা অথবা হাইব্রিড সব জাতের ফলের গাছ লাগাতে পারেন। কারণ কলম করে তৈরি করা অথবা হাইব্রিড জাতগুলো খুব তাড়াতাড়ি ফল দেয়। যে সকল গাছ আকারে ছোট থাকে এবং দ্রুত ফল দেয় সেই ফলের জাতগুলো নির্বাচন করাই ভালো। 
পেয়ারা, মাল্টা, লেবু, আমলকি, আমড়া, বাতাবি লেবু, লিচু ,কদবেল, ডালিম, জামরুল, লটকন, সফেদা, আনার, আঙ্গুর, জলপাই, বাউকুল, আপেল, কুল, নারিকেল, আম, জাম, কাঁঠাল, স্ট্রবেরি, রামবুটান সহ প্রায় সকল জাতের ফলের গাছই ছাদ বাগানে করা যায়। 
এক সময় মানুষের ধারণা ছিল সাদ বাগানে শুধু ছোট জাতের ফলেরই চাষ করা যায়। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্যক্তি পর্যায়ের লোকজন ছাদ বাগানে অনেক বড় আকারের ফলের গাছও লাগাচ্ছে। তবে গাছের আকার আকৃতি অনুযায়ী অবশ্যই টব নির্বাচন করতে হবে। 
আর এ সকল ফলের গাছ লাগিয়ে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি ফল বিক্রি করেও অর্থনৈতিক উন্নয়ন করছে অনেকে। তাই আপনি যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন আপনার বাড়ির ছাদে ফলের বাগান করবেন তাই দেরি না করে আজই শুরু করুন এবং উপরে বর্ণিত ফলের গাছগুলো লাগিয়ে সুন্দর একটি বাগান তৈরি করে ফেলুন।

ছাদ বাগানের জন্য করনীয়

ছাদ বাগানের জন্য করনীয় এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু বাগান করলেই হবে না, বাগানের এবং ছাদের দুটোরই যত্ন নিতে হবে। তাই সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ে ছাদ বাগানের জন্য করনীয় বিষয়গুলো জেনে নিন।
  • জিও গ্রো ব্যাগ ব্যবহার করুন। কারণ এটি দীর্ঘস্থায়ী টেকসই এবং ওজনে হালকা। ফলে ছাদের উপর লোড কম পড়বে।
  • গাছের বৃদ্ধি এবং ফুল ফল ধারণের জন্য সূর্যের আলো খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। তাই বাগানের নকশা এমন ভাবে করুন যাতে ছোট বড় সব গাছগুলো সমানভাবে সূর্যের আলো পায়।
  • প্যাকেট যত জৈব কম্পোস্ট সার ব্যবহার করুন। এতে দুর্গন্ধ ছড়াবে না ফলে পরিবেশ ভালো থাকবে।
  • যে সকল জৈব সার ব্যবহার করলে পিপড়া আসতে পারে যেমন- মাছের কাঁটা, খৈল এগুলো ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।
  • ছাদে যেহেতু পর্যাপ্ত বাতাস লাগার সম্ভাবনা থাকে, তাই সে ক্ষেত্রে ছোট গাছগুলোকে অবশ্যই খুঁটির সাথে বেঁধে দিতে হবে।
  • গাছের গোড়ায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করবেন না।
  • আর যদি অতিরিক্ত পানি দিয়েই ফেলেন তাহলে অবশ্যই পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা রাখুন।
  • টবে বা ছাদের কোন অংশে কোনভাবেই যেন পানির জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
  • প্রয়োজনে প্রতিদিন সকালবেলা প্রতিটা গাছের গোড়ায় পানি দিন। তাহলে অতিরিক্ত পানি দিনের আলোতে সহজেই শুকিয়ে যাবে।
  • ছাদের পানি নিষ্কাশনের জন্য অবশ্যই পাইপ ব্যবহার করুন। তা না হলে পানি নিচের দিকে গড়িয়ে বাড়ির দেয়াল নষ্ট হয়ে যাবে।

শেষ কথা

বাড়ির ছাদে ফলের বাগান করার পদ্ধতি ও ছাদ বাগানের পরিচর্যা এই আলোচ্য সূচীতে আমরা চেষ্টা করেছি বাড়ির ছাদে ফলের বাগান করার পদ্ধতি ও ছাদ বাগানের পরিচর্যা সম্পর্কে আধুনিক তথ্য গুলো তুলে ধরার। আশা করি, আপনি যদি বাড়ির ছাদে ফলের বাগান করার পরিকল্পনা করেন তাহলে এই পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে আপনি অনেক উপকৃত হবেন। আর পোস্টটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্চিং লিংক প্রোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪