ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কি? এবং ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সমূহ

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং বা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আমাদের বাংলাদেশ অনেক জনপ্রিয় একটি পেশা। আপনি যদি এস.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে থাকেন তাহলে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কি? এবং ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সমূহ এ সম্পর্কে জেনে প্রকৌশলী হয়ে খুব সহজেই সুন্দর একটা কেরিয়ার গড়তে পারেন। তাই আমাদের আজকের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কি? এবং ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সমূহ এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কি
ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কি? এবং ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সমূহ জেনে খুব সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন আপনি কেন এই কারিগরি শিক্ষাটি গ্রহণ করবেন। প্রতিটি শিক্ষাই হওয়া উচিত কর্মমুখী, এতে করে একদিকে যেমন বেকার সমস্যার সমাধান হয় অন্যদিকে গড়ে ওঠে দক্ষ জনশক্তি।

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কি?

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং বা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী বা ডিপ্লোমা স্থপতি হচ্ছে সরকার অনুমোদিত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বা কারিগরি প্রতিষ্ঠানে এস এস সি বা সম্মানের পরীক্ষায় পাশ করার পর ভর্তি হয়ে চার বছর মেয়াদী আটটি সেমিস্টার সম্পন্ন করার পর একাডেমিকভাবে স্বীকৃত প্রাপ্ত হয় বা সার্টিফিকেট প্রদান করা হয় মূলত এটাই হলো ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং। ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গণিত এবং কারিগরি শিক্ষার সমন্বয়ে ঘটিয়ে মানুষের জীবনমান সহজ ও উন্নত করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে থাকেন।

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি তথ্য

অনেক শিক্ষার্থীরাই আছেন যারা ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তির তথ্য সংক্রান্ত বিষয়ে সঠিক তথ্য জানার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি করেন। আমাদের আজকের এই আলোচনায় সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করব ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তির ক্ষেত্রে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এর আওতাধীন সকল সরকারি ও বেসরকারি কলেজ সমূহে বছরে একবার একযোগে ভর্তির কার্যক্রম শুরু করেন।
সাধারণত প্রতি বছরের আগস্ট মাস থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়ে থাকে। অনলাইনের মাধ্যমেই ভর্তির যাবতীয় কর্ম সম্পাদন হয়ে থাকে। এই ওয়েবসাইটে www.btebadmission.gov.bd ভর্তি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পাওয়া যায়। ভর্তি ইচ্ছুক একজন শিক্ষার্থীকে এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রথমে আবেদন পত্র পূরণ করে নির্দিষ্ট ফি জমা দিতে হয়।
ফরম জমা দেওয়ার পর প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে শিক্ষাক্রম ভিত্তিক নির্ধারিত ভর্তি ফি প্রদান করে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ আবেদনের আওতায় ভর্তি হতে চাইলে শিক্ষার্থীকে আবশ্যিকভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়তা সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় প্রথম পর্যায়ে সিলেকশন এবং আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।
তবে এ সকল শিক্ষার্থী চাইলে বোর্ড নির্ধারিত তারিখে পুনরায় ফ্রি সহ আবেদন করতে পারবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আবেদন ও অপেক্ষা মান তালিকা হতে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। সিলেটকৃত শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশন ডিফল্টভাবে খোলা হবে এবং পছন্দ ক্রম অনুযায়ী আসন খালি থাকা সাপেক্ষে উপরের ক্রমিক নম্বরে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এক্ষেত্রে যতবার অপেক্ষামান তালিকা হতে ফলাফল প্রকাশ করা হবে তার পূর্বে ততবার অটো মাইগ্রেশন এর ফলাফল প্রকাশ করা হবে। অটো মাইগ্রেশন খোলা থাকলে সর্বশেষ যে টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানে অটো মাইগ্রেশন হবে সেখানেই অধ্যয়ন করতে হবে।
তবে শিক্ষার্থী চাইলে যেকোনো পর্যায়ে অটোমাইগেশন বন্ধ করতে পারবে। তবে একবার অটো মাইগ্রেশন বন্ধ করলে আর তা খোলার সুযোগ থাকবে না। উল্লেখ্য, যে কোন পর্যায়ে মাইগ্রেশনে নতুন করে সিলেকশনের প্রয়োজন নেই।
প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে সিলেকশনকৃত শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এস.এস.সি পরীক্ষার মূল নম্বর পত্র, সদ্য তোলা ৩ কপি ছবি, প্রশংসাপত্রের ফটোকপি জমা দিয়ে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বর্ণিত ডকুমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হলে শিক্ষার্থী অনুপস্থিত বলে গণ্য হবে এবং সিলেকশন বাতিল বলে গণ্য হবে। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনলাইনে প্রেরণ করা হবে। প্রাপ্ত শুন্য আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি বিষয়ক বিজ্ঞপ্তি পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
প্রতিষ্ঠানের আসন শূন্যতা হওয়ার সাথে সাথে এসএমএস এর মাধ্যমে ফলাফল পাওয়া যাবে এবং এসএমএস পাওয়া মাত্রই নির্ধারিত ভর্তি ফি প্রদান করে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। ভর্তি নিশ্চিত করার ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এস.এস.সি পরীক্ষার মূল নম্বর পত্র, সদ্য তোলা ছবি ৩ কপি, প্রশংসা পত্রের ফটোকপি জমা দিয়ে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে অন্যথায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তির যোগ্যতা

প্রিয় শিক্ষার্থী, আপনারা ইতিমধ্যে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কি? এবং ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সমূহ এবং ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছেন। আমরা এখন আলোচনা করব ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তির যোগ্যতা বিষয়ে। ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তির যোগ্যতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকার কারণে অনেকেই আগ্রহ থাকা শর্তেও ভর্তি হতে পারেন না। 
তাই সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তির তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।
যেকোন শিক্ষা বোর্ড হতে এস.এস.সি/ দাখিল/ এস.এস.সি ভোকেশনাল/ দাখিল ভোকেশনাল বা সমমানের পরীক্ষা অথবা বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হতে এস.এস.সি সমমান অথবা ও লেভেল এবং জিপিএ পদ্ধতি চালু পূর্বের এস.এস.সি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নিম্ন যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।
  • এস.এস.সি/ সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ পদ্ধতিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্যঃ
ছাত্রঃ সাধারণ গণিত বা উচ্চতর গণিতে জিপিএ ৩.০০ সহ কমপক্ষে জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে।
ছাত্রীঃ সাধারণ গণিত বা উচ্চতর গণিতে জিপিএ ২.০০ সহ কমপক্ষে জিপিএ ২.৫০ থাকতে হবে।
  • জিপিএ পদ্ধতির পূর্বের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্যঃ
ছাত্র-ছাত্রী ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ।
  • ও লেভেল উত্তীর্ণদের জন্যঃ
ছাত্র-ছাত্রী একটি বিষয়ে সি গ্রেড এবং গণিত সহ অন্য যেকোনো দুটি বিষয়ে নূন্যতম ডি গ্রেড থাকতে হবে।

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সমূহ/টেকনোলজি সমূহ

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সমূহ জানার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী খুব সহজেই তার পছন্দের কোর্সটি বেছে নিতে পারবেন। ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স বলতে আমরা সাধারণত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংই বুঝে থাকে। কিন্তু প্রায় ২০টিও অধিক ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স রয়েছে। তাই চলুন মনোযোগ সহকারে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সসমূহ জেনে নেই।
  • অটোমোবাইল
  • আর্কিটেকচার
  • সিরামিকস
  • কেমিক্যাল
  • সিভিল
  • সিভিল (উড)
  • কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি
  • কন্সট্রাকশন
  • ইলেকট্রিক্যাল
  • ইলেকট্রো মেডিকেল
  • ইলেকট্রনিক্স
  • এনভায়রনমেন্টাল
  • ফুড
  • গ্লাস
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • মেকাট্রনিক্স
  • মেকানিক্যাল
  • পাওয়ার
  • প্রিন্ট
  • রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশন
  • সার্ভেইং
  • টেলিকমিউনিকেশন

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার খরচ

ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার খরচ সম্পর্কে ধারণা দেওয়াটা একটু কঠিন। কারণ খরচটা নির্ভর করে দুইটা বিষয়ের উপর। একটি হল পড়াশোনার খরচ অন্যটি হল হাত খরচ। পড়াশোনার খরচ টা মোটামুটি নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব তারপরেও প্রতিবছর এই খরচ বেড়েই চলছে। আর হাত খরচটা নির্ভর করবে সম্পূর্ণ নিজের উপর।
ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং চার বছরের একটি কোর্স। এই চার বছরে সর্বমোট আটটি সেমিস্টার রয়েছে। প্রতিটি সেমিস্টারে আলাদা আলাদা ভাবে সেমিস্টার ফি জমা দিতে হয়। তবে সরকারি পলিটেকনিকে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ক্ষেত্রে কোন কোর্স ফি জমা দিতে হয় না বা লাগে না। তবে বই া কেনা বা জব শিট তৈরি করা বাবদ ২৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা লাগে।
আর বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ক্ষেত্রে প্রতি সেমিস্টারে ইনস্টিটিউশন ভেদে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে খরচের হিসাব সঠিক করে বলা কঠিন। এখানে শুধুমাত্র একটা ধারণা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান অনুযায়ী খরচ কম বেশি হতে পারে।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কি? এবং ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সমূহ এই টাইটেলে আমরা ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কি? এবং ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সমূহ নিয়ে চেষ্টা করেছি বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার। আপনি যদি সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন আশা করি অনেক উপকৃত হয়েছেন। আর পোস্টটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে অবশ্যই প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করুন। আর এ সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার কোন জিজ্ঞাসা থাকলে অবশ্যই মন্তব্য করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্চিং লিংক প্রোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪