কসর নামাজ কি? কসর নামাজের নিয়ম কি? এবং কসর নামাজের মাসআলা সমূহ

প্রিয় পাঠক, আমাদের আজকের আলোচনায় সম্পূর্ণ জুড়ে থাকছে কসর নামাজ সম্পর্কে। তাই সম্পূর্ণ আলোচনাটি মনোযোগ সহকারে পড়ে জেনে নিন কসর নামাজ কি? কসর নামাজের নিয়ম কি? এবং কসর নামাজের মাসআলা সমূহ। এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়লে কসর নামাজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
কসর নামাজ কি?
তাই আসুন আমরা জেনে নেই কসর নামাজ কি? কসর নামাজ কাদের জন্য? কসর নামাজের নিয়ম কি? কসর নামাজের নিয়ত কি? কসর নামাজ কত কিলোমিটার গেলে পড়তে হয়? কসর নামাজ কত দিন পড়তে হয়? নিচের আর্টিকেলটি পড়লে আশা করি আমাদের সামনে উক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে যাবে।

ভূমিকা

আমরা মুসলিম, মুসলিম মানেই সে আল্লাহর আনুগত্যে বিশ্বাসী। শত কষ্ট হলেও আমরা আল্লাহর আনুগত্যের সামনে নিজেদের মাথাকে নত করে দেই। কিন্তু আল্লাহ তো রহমান রহিম, দয়াময়। তিনি কখনোই বান্দাকে কষ্ট দিতে চান না। 
তাই কোন বান্দা যদি মুসাফির হয় তাহলে সফর অবস্থায় নামাজ আদায় করা স্বাভাবিকভাবেই তার জন্য কষ্টকর হয়ে যায়, তাকে কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুসাফিরের জন্য নামাজের ক্ষেত্রে কসর করার অনুমতি দিয়েছেন।

কসর নামাজ কি?

কসর অর্থ কম করা, অল্প করা। পরিভাষায়ঃ মুসাফির ব্যক্তির চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজগুলো অর্ধেক আদায় করাকে পরিভাষায় কসর বলা হয়।

কসর নামাজ কাদের জন্য

কসর নামাজ ওই সকল লোকদের জন্য যারা নিজ এলাকা থেকে ৭৮ কিলোমিটার দূরত্বে সফরের জন্য বের হয়, এবং যেই জায়গায় গমনের উদ্দেশ্যে বের হয়েছে সেখানে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করে, তাহলে এই সমস্ত লোক রাস্তায় এবং যেখানে যাচ্ছে সেখানে গিয়েও তাদের চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজগুলোকে দুই রাকাত আদায় করবে। তবে ফজর, মাগরিব, ও বিতের নামাজ এর ক্ষেত্রে কোন কমতি করবে না। আর এজাতীয় সফরের নিয়তে যারা বের হয় তাদেরকে শরীয়তের পরিভাষায় মুসাফির বলা হয়। অর্থাৎ কসর নামাজ শুধুমাত্র মুসাফিরদের জন্যই।

কসর নামাজের নিয়ম

একজন মুসাফির ব্যক্তি সফরের উদ্দেশ্যে নিজ এলাকা ত্যাগ করার পর থেকে সে নিজের চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজগুলোকে দুই রাকাত আদায় করবে, এক্ষেত্রে সে ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলক্রমেও তার নামাজকে পূর্ণ করবে না অর্থাৎ চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজকে চার রাকাত আদায় করবে না, বরং কম আদায় করবে। এটাই তার জন্য ওয়াজিব।
এবং মুসাফির ব্যক্তি সে যদি জামাতে নামাজ আদায় করতে চায় তাহলে সে অন্য একজন মুসাফির ইমামের পিছনেই জামাতে নামাজ আদায় করবে, তাহলে সেই মুসাফির ইমামও তাকে সঙ্গে নিয়ে চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজকে দুই রাকাত আদায় করবে। আর যদি সে কোন মুকিম ইমামের পিছনে নামাজ আদায় করে তাহলে এক্ষেত্রে সে চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজকে চার রাকাতই আদায় করবে। এক্ষেত্রে আর সে কসর করবে না।
মুসাফির ব্যক্তি যদি মুকিম অবস্থায় থাকাকালীন কোন নামাজ কাজা করে থাকে, এবং সে উক্ত-মুকিম অবস্থার কাজা নামাজকে মুসাফির অবস্থায় আদায় করতে চায় তাহলে সে উক্ত নামাজকে কসর করে আদায় করবে না, বরং পূর্ণ রূপেই আদায় করতে হবে। ঠিক এর বিপরীত যদি মুসাফির অবস্থায় কোন নামাজ কাজা হয়ে যায়, এবং তা মুকিম অবস্থায় আদায় করতে চায় তাহলে আবার কসর করেই উক্ত নামাজ আদায় করবে অর্থাৎ এই নামাজকে সে পূর্ণরূপে আদায় করবে না।

কসর নামাজের নিয়ত

মুসাফির ব্যক্তি তার নামাজকে আদায় করার সময় এভাবে নিয়ত করবে, আমি কেবলামুখী হয়ে জোহরের ফরজ চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজকে কসর করিয়া দুই রাকাত আদায় করতেছি আল্লাহু আকবার। এখানে যোহরের স্থানে যেই ওয়াক্তর নামাজ আদায় করবে সেই ওয়াক্তের নিয়ত করবে। আর যদি ইমামের পিছনে নামাজ আদায় করে তাহলে উক্ত নিয়তের সাথে এই কথাটি যুক্ত করে নিবে যে, আমি এই ইমামের পিছনে জোহর বা আসর বা এশার চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজ কে কসর করিয়া দুই রাকাত আদায় করতেছি আল্লাহু আকবার।
কত কিলোমিটার গেলে কসর নামাজ আদায় করা যায়? কোন ব্যক্তি যদি নিজ শহর বা নিজগ্রাম ত্যাগ করে ৪৮ মাইল তথা ৭৮ কিলোমিটার অতিক্রম করে তাহলেই সে কসরের নামাজ আদায় করতে পারবে।

কছর নামাজ কত দিন পড়তে হয়

এ ব্যাপারে ইমামদের মাঝে যথেষ্ট মতবিরোধ রয়েছে। তবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতানুসারে এবং আমাদের হানাফী মাযহাব অনুসারে একজন মুসাফির ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১৫ দিন পর্যন্ত তার নামাজকে কসর করতে পারবে।

কসর নামাজের মাসয়ালা

প্রিয় পাঠক!যেহেতু ইসলামী শরীয়াতে কসর নামাজের বিধান মুসাফির ব্যক্তির সুবিধার জন্য দেয়া হয়েছে, সুতরাং উক্ত নামাজ অন্য সকল নামাজের চেয়ে মাসআলা গত দিক থেকে কিছুটা আলাদা হবে এটাই স্বাভাবিক। নিম্নে কসর নামাজের মাসআলা নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ
কসর হলো এমন নামাজ যা মুসাফির ব্যক্তির জন্য আদায় করা ওয়াজিব। এবং কোন মুসাফির যদি নামাজকে কসর না করে পূর্ণরূপে আদায় করে তাহলে সে গুনাহগার হবে।
এবং কছর নামাজ নিজ শহর বা নিজ এলাকা এর ভিতর আদায় করা যায় না, বরং নিজ শহর বা নিজ এলাকা ত্যাগ করার পরেই কেবল আদায় করা যায়, অবশ্যই সেই ত্যাগ টা হতে হবে ৪৮ মাইল দূরত্বের সফরের উদ্দেশ্যে। চাই সেই সফরটা প্লেন যোগে হোক বা বাসযোগে হোক বা অন্য যেকোনো যানবাহনেই হোক না কেন, এমনকি পায়ে হেটেও যদি কেউ ৪৮ মাইল সফরের উদ্দেশ্যে বের হয় তাহলে সেও কসর করবে।
কসর নামাজের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা হলঃ মুসাফির ব্যক্তি যদি নিজ এলাকা ত্যাগ করে দূর কোন শহরে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়তে সফর করে তবেই কেবল সে উক্ত ১৫ দিন কসর নামাজ আদায় করতে পারবে। আর যদি সে ১৫ দিনের বেশি কোথাও থাকার নিয়ত করে তাহলে সে আর কসর করতে পারবে না।
মুসাফির ব্যক্তি নিজ শহর বা নিজ এলাকার এরিয়াতে প্রবেশ করার সাথে সাথেই সে তার কসর নামাজ আদায় করার অধিকার হারিয়ে ফেলবে, অর্থাৎ তার জন্য আর নামাজকে কসর করার সুযোগ থাকবে না বরং তাকে পূর্ণরূপেই নামাজ আদায় করতে হবে। কারণ তার মুসাফিরত্ব নিজ এলাকাতে প্রবেশ করার দ্বারা শেষ হয়ে গিয়েছে।

শেষ কথা

চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজ কে দুই রাকাত আদায় করার পর অনেকের মনে এই ধারণা উদয় হতে পারে যে, নামাজ মনে হয় পূর্ণ হল না। এই ধরনের ধারণা থেকে বেঁচে থাকা উচিত। কেননা মুসাফিরের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কসরের বিধানটি হাদিয়া স্বরূপ। যা অবশ্যই গ্রহণ করা উচিত। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে তার খাটি বান্দা হয়ে তার সকল বিধি-বিধান পরিপূর্ণরূপে বুঝে আমল করার তৌফিক দান করুন।
প্রিয় পাঠক, আমরা চেষ্টা করেছি কসর নামাজ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা। আপনি যদি উপরের আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন আশা করি কসর নামাজ কি? কসর নামাজের নিয়ম কি? এবং কসর নামাজের মাসআলা সমূহ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এই আলোচনাটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্চিং লিংক প্রোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪