তাহাজ্জুদ নামাজের সময় ও তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

 প্রিয় পাঠক, তাহাজ্জুদ নামাজের সময় ও তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত সম্পর্কে আমরা আজকে বিস্তারিত আলোচনা করব। যে সকল অনুসন্ধানকারী ভাই ও বোনেরা তাহাজ্জুদ নামাজের সময় ও তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত সম্পর্কে জানতে চান তেনারা সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, তাহাজ্জুদ নামাজের সময় ও তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত সম্পর্কে।

তাহাজ্জুদ নামাজের সময়
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত পড়ার পরেও অনেকেই আছেন যারা অধিক সওয়াবের আশায় বা গুনাহ মাফের আশায় অথবা আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের আশায় বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগি করতে চান তারাই মূলত তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে থাকেন।

ভূমিকা

একজন মুসলমান মানেই সে তার প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাইবে, আর রবের সন্তুষ্টি অর্জনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো তাহাজ্জুদে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করা। তাই নিম্নে তাহাজ্জুদের সময়, নিয়ম, নিয়ত ও ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো।

তাহাজ্জুদ নামাজের সময়

তাহাজ্জুদ নামাজের সময় শুরু হয় মূলত এশার নামাজ আদায় করার পর থেকেই, অর্থাৎ এশার নামাজ শেষ হওয়া মানেই তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যাওয়া, সুতরাং কেউ যদি তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে চায় তাহলে সে এশার নামাজ পরবর্তী সময় থেকেই তাহাজ্জুদ পড়া শুরু করতে পারবে। এবং তাহাজ্জুদের সময় রাত্রের এক তৃতীয়াংশ তথা ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়া পর্যন্ত প্রলম্বিত হয়ে থাকে। তবে তাহাজ্জুদের সর্বোত্তম সময় হলো রাত্রের শেষভাগ। তাই আমাদের উচিত রাত্রের শেষ ভাগেই তাহাজ্জুদ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করা।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম

তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য আলাদা কোন নিয়ম নেই। শুধুমাত্র নিয়তের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। বাকি তাহাজ্জুদের নামাজ অন্য সকল নফল নামাজের মতই। অর্থাৎ কেউ যদি তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে চায় তাহলে অবশ্যই তাকে পরিপূর্ণভাবে ভালো করে অজু করে নিতে হবে, অতঃপর সে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদের নামাজের নিয়ত করে নামাজ শুরু করে দিবে।
দুই রাকাত নফল নামাজ যেভাবে পড়া হয়ে থাকে ঠিক সেভাবেই সে নফল নামাজ আদায় করবে। এটাই তাহাজ্জুদের নামাজ তথা রাত্রি কালীন নফল নামাজ। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা হবে এক সালামে দুই রাকাত করে, তবে কেউ যদি এক সালামে চার রাকাতও আদায় করতে চায় তাহলে সে তাও করতে পারবে।
তাহাজ্জুদের নামাজ দুই রাকাত, চার রাকাত, ছয় রাকাত ৮ রাকাত যত ইচ্ছা পরা যায়, এতে কোন বাধা নেই। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই তাহাজ্জুদের নামাজ ১২ রাকাত ও আদায় করেছেন, তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নামাজে কেরাত, রুকু, সেজদা ইত্যাদি অনেক সময় নিয়ে আদায় করতেন।
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত আরবি ও বাংলায়ঃ
نويت ان اصلي لله تعالى ركعتي التهجد متوجها إلى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر
অর্থঃ আমি তাহাজ্জুদের দুই রাকাত নামাজ কেবলামুখী হয়ে আদায় করতেছি আল্লাহু আকবার।

তাহাজ্জুদ নামাজের সূরা

প্রিয় পাঠক! আমাদের সমাজে বিভিন্ন কথার প্রচলন রয়েছে, যেমনঃ শবেবরাতের জন্য কিছু সূরা নির্ধারণ করে দেয়া, শবে কদরের জন্য কিছু সূরা নির্ধারণ করে দেয়া, নফল নামাজের জন্য সুরা নির্ধারণ করে দেয়া ইত্যাদি। আসলে ইসলামে এর কোন ভিত্তি নেই। বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ আদায় করবে তারই কালামুল্লাহ শরীফ থেকে।
এখানে কোন সূরার সীমাবদ্ধতা নেই। যেই সূরা ইচ্ছা সেই সূরা দিয়েই নামাজ আদায় করতে পারবে, নামাজ টা চাই তাহাজ্জুদের হোক বা শবে কদরের হোক বা শবে বরাতের হোক বা ফরজ নামাজই হোক না কেন। মোটকথা তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য আলাদা কোন সূরা নির্ধারিত নেই, যেই সূরা ইচ্ছা সেই সূরা দিয়েই তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা যাবে।

তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়ে কোরআনের আয়াত

তাহাজ্জুদ এমন একটি নামাজ যেই নামাজের মাধ্যমে খুব সহজে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, কেননা এটা হল নফল নামাজ অর্থাৎ অতিরিক্ত নামাজ যেটা করলে অনেক বেশি সওয়াব আর না করলে কোনই গুনাহ নেই। তাই এই নামাজের ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে কারীমের মধ্যে তার প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলেছেনঃ
ومن الليل فتهجد به نافلة لك عسى ان يبعثك ربك مقاما محمودا
হে মুহাম্মদ! আপনি ঘুম থেকে উঠে রাত্রির কিয়দংশ থাকতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ুন, এটা কেবলমাত্র আপনারই জন্যে অতিরিক্ত করা হয়েছে। সম্ভবত এর বিনিময়ে আপনার প্রভু আপনাকে প্রশংসিত স্থান দান করবেন।’ (বণী ইসরাইল ৭৯
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ
يا ايها المزمل !قم الليل الا قليلا. أو زدعليه ورتل القران ترتيلا
‘হে চাদরাচ্ছাদিত! রাত্রির অধিকাংশ সময় দাঁড়িয়ে আমার ইবাদাত করুন। (যদি তাতে মক্ষম না হন তবে) রাত্রির অর্ধাংশ অথবা কিছু বেশি বা কম সময় দাঁড়িয়ে নামাজে ধীরে ধীরে সুমিষ্ট সুরে মহাগ্রন্থ কুরআন তিলাওয়াত করুন। অর্থাৎ রাত্রির কিয়দংশ সময় দাঁড়িয়ে মহাগ্রন্থ কুরআন পাঠের সঙ্গে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করুন।’ (মুযযাম্মিল ১-৪)

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত

আমরা যতগুলো নামাজ সাধারণত আদায় করে থাকি, ফরজ নামাজের পর অন্যান্য সকল সুন্নত ও নফল নামাজের মধ্যে সবচেয়ে ফজিলত পূর্ণ নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ
রাত্রের শেষভাগে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন, এবং বলতে থাকেন হে দুনিয়া বাঁশি! তোমাদের মধ্যে কে আমাকে ডাকতে চায়? আমাকে ডাকুক, আমি তার ডাকে সাড়া দেব, এমন কে আছে? যে অভাবী? আমার কাছে চাইলে আমি তার অভাব পূরণ করব, তোমাদের মধ্যে কে আছে? যে গুনাগার আমার কাছে ক্ষমা চাইলে আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।
এভাবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাত্রের শেষভাগে এসে বান্দাদেরকে ডাকতে থাকেন।(মুসলিম শরীফ) এর দ্বারাই বোঝা যায় তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব এবং ফজিলত কত বেশি!
অন্য এক হাদীসের মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি রাত্রের শেষ ভাগে তাহাজ্জুদ আদায়ের জন্য ঘুম থেকে জাগ্রত হয় এবং স্বীয় স্ত্রীকে তাহাজ্জুদ আদায়ের জন্য ঘুম থেকে ডাক দেয়, যদি স্ত্রী ঘুম থেকে না জাগে এর জন্য সে যদি স্ত্রীর মুখে পানি ছিটিয়ে হলেও ঘুম থেকে জাগ্রত করে তাহলে আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি রহমত বর্ষণ করতে থাকেন।
অনুরূপভাবে কোন স্ত্রী যদি তাহাজ্জুদ আদায়ের জন্য ঘুম থেকে জাগ্রত হয় এবং স্বীয় স্বামীর সঙ্গে উক্ত কাজ করে তাহলে তার প্রতিও আল্লাহ তা'আলা রহমত বর্ষণ করতে থাকেন। (নাসায়ী শরীফ)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও এরশাদ করেনঃ আল্লাহ তাআলার নিকটে সবচেয়ে প্রিয় নামাজ হলো দাউদ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের নামাজ। তিনি অর্ধেক রাত ঘুমাতেন আর রাতের তৃতীয় ভাগে তাহাজ্জুদের দাঁড়িয়ে যেতেন।(মেশকাত শরীফ)
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ফরজ সকল নামাজ আদায়ের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা হওয়ার তৌফিক দান করুন।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক! উপরি উক্ত আলোচনার মাধ্যমে আশা করি আমাদের সামনে তাহাজ্জুদ নামাজের সময়, নিয়ম, নিয়ত, সূরা ও ফজিলত সংক্রান্ত সকল বিষয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আর এই পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে অথবা উপকার হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্চিং লিংক প্রোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪