ড্রপ শিপিং বিজনেস কি? ড্রপ শিপিং করে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

ই-কমার্স বিজনেস এর একটি অংশ হল ড্রপ শিপিং। ড্রপ শিপিং বিজনেস কি? ড্রপ শিপিং করে কিভাবে টাকা আয় করা যায়? এই আর্টিকেলে আমরা আজকে ড্রপ শিপিং বিজনেস কি? ড্রপ শিপিং করে কিভাবে টাকা আয় করা যায়? এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে জেনে নিন ড্রপ শিপিং বিজনেস কি? ড্রপ শিপিং করে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?
ড্রপ শিপিং বিজনেস কি?

বিগত কয়েক বছর ধরেই ড্রপ শিপিং বিজনেস একটি জনপ্রিয় ব্যবসা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় ই-কমার্স ওয়েবসাইট আমাজন, আলী এক্সপ্রেস এর মত প্ল্যাটফর্মে ড্রপ শিপিং বিজনেস করে বেশ ভালো পরিমান ডলার ইনকাম করা সম্ভব হচ্ছে। সেই সাথে আমাদের দেশেও জনপ্রিয় ওয়েব সাইট দারাজ সহ বেশ কয়েকটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটে ড্রপ শিপিং বিজনেস শুরু হয়েছে। তাই আজকের আলোচনাটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ে জেনে নিন ড্রপ শিপিং বিজনেস কি? ড্রপ শিপিং করে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

ড্রপ শিপিং বিজনেস কি?

ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করার যতগুলো মাধ্যম বা উপায়ে রয়েছে তার মধ্যে ড্রপ শিপিং অন্যতম। ড্রপ শিপিং হল একটা ই-কমার্স ওয়েবসাইট যেখানে আপনি অন্য একটি নামিদামি কোম্পানির প্রোডাক্ট আপনার ওয়েবসাইটে যুক্ত করে অনলাইনে কাস্টমারদের কাছে বিক্রি করবেন কিন্তু প্রোডাক্ট পৌঁছে দিবে যে কোম্পানির প্রোডাক্ট বিক্রি করলেন সেই কোম্পানি এখানে আপনার কোন প্রোডাক্ট ক্রয় করতে হবে না মূলত এটাই হলো ড্রপ শিপিং বিজনেস।

ড্রপ শিপিং করে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

ড্রপ শিপিং একটি অনলাইন বিজনেস। ড্রপ শিপিং করে কিভাবে টাকা আয় করা যায়? এই আর্টিকেলটি বিস্তারিত পড়ার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন ড্রপ শিপিং করে কিভাবে টাকা আয় করা যায়? তাই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে জেনে নিন ড্রপ শিপিং করে কিভাবে টাকা আয় করা যায়? এজন্য আপনাকে প্রথমেই একটি অনলাইন স্টোর তৈরি করতে হবে। 
তারপর প্রোডাক্ট রিচার্জ করে যে প্রোডাক্টগুলো বেশি সেল হয় সেগুলো আপনার অনলাইন স্টোরে এড করতে হবে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে মার্কেটিং করার মাধ্যমে যখন কোন ক্রেতা আপনার ওয়েবসাইটে এসে পছন্দের প্রোডাক্ট অর্ডার করবে তখন আপনি যে ওয়েবসাইট থেকে প্রোডাক্ট এড করেছেন যেমন Amazon অথবা AliExpress সেখানে আপনার অর্ডারটি পৌঁছে দিতে হবে। তারপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি ঠিকানা অনুযায়ী ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিবে আর এভাবেই ড্রপ শিপিং করে আপনি ইনকাম করতে পারবেন।

টাকা ছাড়াই কীভাবে ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করবেন?

আপনার কাছে কোন টাকা নেই তাতে কোন সমস্যা নেই যদি আপনি একটি ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবস্থা করে ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন তাহলে টাকা ছাড়াই ড্রপিং শিপিং এর ব্যবসা শুরু করতে পারেন। টাকা ছাড়াই কীভাবে ড্রপশিপিং ব্যবসা শুরু করবেন? কিভাবে যদি জানতে চান তাহলে আপনি সঠিক জায়গাতে এসেছেন। তবে একটি অনলাইন স্টোর তৈরি করার জন্য যে বিষয়গুলোর প্রয়োজন হয় সেগুলোর জন্য অবশ্যই ইনভেস্ট করতে হবে। যেমন- প্রথমে আপনাকে একটা ডোমেইন কিনতে হবে, এরপরে হোস্টিং কিনতে হবে, এরপর বিভিন্ন প্লাগিন কিনতে হবে অথবা কিছু প্লাগিন ফ্রিতেই ব্যবহার করা যায়। 
এরপর যে জিনিসটা লাগবে সেটা হল একটা সুন্দর থিম আর সবকিছুর পরে থাকতে হবে আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির অভিজ্ঞতা অথবা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে হবে। আবার আপনার যদি কোন অর্থই না থাকে তাহলে Shopify একাউন্ট ক্রিয়েট করে ড্রপ শিপিং বিজনেস শুরু করতে পারেন। ইউটিউবে বিভিন্ন চ্যানেলে গাইডলাইনপাবেন এই বিজনেস গুলো করার জন্য।

বাংলাদেশ থেকে কিভাবে ড্রপ শিপিং বিজনেস শুরু করা যায়?

বাংলাদেশ থেকে কিভাবে ড্রপ শিপিং বিজনেস শুরু করা যায়? হ্যাঁ এটি একটি কমন প্রশ্ন আমরা যেহেতু বাংলাদেশী তাই আমরা চিন্তা করি গ্রুপ শিপিং বিজনেস যেহেতু দেশের বাইরে থেকে এই আইডিয়াটা এসেছে তাই আমাদের দেশে ঘরে বসে আমরা কিভাবে এই বিজনেস শুরু করতে পারব। তাই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে বাংলাদেশ থেকে কিভাবে ড্রপ শিপিং বিজনেস শুরু করা যায়? এ সম্পর্কে জেনে নিন। বাংলাদেশ থেকে ড্রপ শিপিং বিজনেস শুরু করতে চাইলে যে জিনিসটা দরকার হবে তা হল-
  • পেমেন্ট গেটওয়ে
  • ই-কমার্স ওয়েবসাইট
  • প্রোডাক্ট এড করার জন্য ভালো একটি প্লাগিন
  • যে কোন একটি নামি দামি কোম্পানিকে বেছে নিতে হবে যেমন- অ্যামাজন
উপরোক্ত এই চারটি জিনিস থাকলেই আপনি বাংলাদেশ থেকে ড্রপ শিপিং বিজনেস শুরু করতে পারবেন। যেহেতু, বিজনেসটা ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস তাই পেমেন্ট গেটওয়েটাও ইন্টারন্যাশনালি হতে হবে। যেমন পেপাল অথবা মাস্টার কার্ড। আর ই কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে গেলে প্রথমে যে জিনিসটা দরকার হবে সেটা হলো ভালো একটা কোম্পানির ডোমেইন এবং হোস্টিং। 
আমার জানামতে Namecheap এবং Bluehost খুব ভালো একটা প্লাটফর্ম ডোমেইন এবং হোস্টিং পারচেজ করার জন্য। এ সকল কিছু এরেঞ্জ করে আপনি বাংলাদেশ থেকে সহজেই ড্রপ শিপিং বিজনেস শুরু করতে পারেন বিস্তারিত আরও জানার জন্য ইউটিউবে গিয়ে ড্রপ শিপিং বিজনেস লিখে সার্চ করলে বিভিন্ন চ্যানেলে পেয়ে যাবেন।

ড্রপশিপিং এর সুবিধা এবং অসুবিধা

প্রিয় পাঠক, আমরা ড্রপ শিপিং বিজনেস কি? ড্রপ শিপিং করে কিভাবে টাকা আয় করা যায়? এই আর্টিকেলে এখন আমরা আলোচনা করব ড্রপ শিপিং বিজনেস এর সুবিধা সমূহ। আসুন নিচের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে জেনে নেই বিজনেস এর সুবিধা সমূহ।
ড্রপশিপিং বিজনেস এর কিছু সুবিধা নিচে তুলে ধরা হলো:
  • ড্রপশিপিং বিজনেস এ খুব কম মূলধন ও কম সময় শুরু করা যায়। কারণ পণ্য স্টক রাখতে এবং শিপিং ব্যয় নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।
  • ড্রপশিপিং বিজনেস এ অনেক গুণগত পণ্যে এড করা যায় ফলে কাস্টমারের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবসা কে খুব সহজেই বড় করা সম্ভব হয়।
  • কেনাকাটা, স্টক রাখা, অর্ডার প্রসেসিং, ও পণ্য পাঠানো সম্পর্কিত কাজগুলি ড্রপশিপারের দায়িত্ব নয়, যা তার সময়, শ্রম ও অর্থ সাশ্রয় হয়।
  • যে কোম্পানির পণ্য আপনার স্টোরে এড করবেন সেখানে প্রচুর পরিমাণে প্রোডাক্ট পাওয়া যায় যার কারণে আপনার এবং আপনার কাস্টমারের চাহিদা অনুযায়ী কাস্টমাইজ বিজনেস করা সহজ হয়।
  • বাড়িতে অথবা অফিসে যেকোনো বসেই এই ব্যবসাটা পরিচালনা করা সম্ভব হয় সেই সাথে চাকরির পাশাপাশি এই বিজনেসটা করাও যায়।
ড্রপশিপিং এর কিছু অসুবিধা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
ড্রপ শিপিং বিজনেস সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধা রয়েছে আসুন নিচের আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ে অসুবিধা গুলো জেনে নেই-
  • ড্রপশিপিং এ সাধারণত পণ্য মূল্যের সাথে একটি ফিক্সড প্রফিট মার্জিন অ্যাড করে বিক্রি করা হয়, অনেক সময়ে পণ্যের মূল্য পরিবর্তন হয়ে অপ্রত্যাশিত ক্ষতি সাধিত হতে পারে।
  • আপনি চাইলেই পণ্যের মান ও সেবা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না কারণ আপনি যে কোম্পানির প্রোডাক্ট বিক্রি করবেন সেই কোম্পানির প্রাইভেসি পলিসি অনুযায়ী বিজনেস পরিচালনা করতে হবে।
  • প্রোডাক্ট ডেলিভারির ক্ষেত্রে আপনি আপনার ইচ্ছামত দিতে পারবেন না।
  • ড্রপ শিপিং বিজনেস এর বড় একটি চ্যালেঞ্জ হল মার্কেটিং। আপনার ওয়েবসাইটের প্রোডাক্টগুলো মার্কেটিং করে বিক্রি করতে হবে। আর মার্কেটিং করা সত্যিই অনেক চ্যালেঞ্জের বিষয়, তাই অবশ্যই এই চ্যালেঞ্জটা আপনাকে নিতে হবে।
পরিশেষে, ড্রপশিপিং এর অনেক সুবিধা রয়েছে, কিন্তু এর সাথে অনেক অসুবিধা ও চ্যালেঞ্জও রয়েছে যা আপনাকে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েই বিজনেস পরিচালনা করতে হবে।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক, আমরা চেষ্টা করেছি ড্রপ শিপিং বিজনেস কি? ড্রপ শিপিং করে কিভাবে টাকা আয় করা যায়? এই আর্টিকেলে ড্রপ শিপিং বিজনেস সম্পর্কে কিছু আইডিয়া শেয়ার করার। আশা করি, ড্রপ শিপিং বিজনেস শুরু করার ক্ষেত্রে এই আইডিয়াগুলো আপনার অনেক কাজে আসবে আর যদি এতোটুকু আপনার উপকারে আসে তাহলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে। ড্রপ শিপিং বিজনেস এ আপনার সফলতা কামনায় এই আর্টিকেলটি এখানেই শেষ করা হলো।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্চিং লিংক প্রোর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪